/
/
/
নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ
নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ
Byলাল সবুজ প্রকাশ
Published১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
৫:২৪ অপরাহ্ণ
516646823_1181868137288453_5875725774706969096_n
লাল সবুজ প্রকাশ
বাংলাদেশের তারুণ্য নেতৃত্বাধীন উন্নয়ন-ভিত্তিক মিডিয়া প্লাটফর্ম লাল সবুজ প্রকাশ। শিশু-কিশোর-তরুণদের চোখে অধিকার, জলবায়ু, সমতা, ন্যায্যতা ও সত্যের গল্পের খোঁজে গ্রাম থেকে শহর, পাহাড় থেকে চরের কথা তুলে ধরি আমরা। তুলে ধরি তাদের সৃজনশীলতা, ছড়াই সচেতনতার বার্তা।

কনটেন্টটি শেয়ার করো

Copied!

সর্বশেষ

Copy of (2)

বাংলাদেশ সরকার, দীর্ঘ ছয় দশকের আলোচনা ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষার পর, অবশেষে বহুল আলোচিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় প্রকল্পটির প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, প্রকল্পটির মোট ব্যয় প্রস্তাবিত ছিল ৫০ হাজার ৪৪৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। পিইসি এই প্রকল্পটি দুই ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে। প্রথম ধাপে ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৬০৮ কোটি টাকা এবং ২০২৬ সালের মার্চ থেকে ২০৩৩ সালের জুনের মধ্যে প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পটি আগামী ২৫ জানুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। পাউবোর কর্মকর্তারা জানান, এর শুরুতে প্রকল্পটি নিজস্ব অর্থায়নে শুরু হবে, তবে পরবর্তী সময়ে বিদেশি ঋণ নেওয়ার সুযোগ থাকলে তা বিবেচনা করা হতে পারে।

এই ব্যারাজ নির্মাণের জন্য রাজবাড়ী জেলার পাংশা পয়েন্টকে সবচেয়ে উপযোগী স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এটি গঙ্গা (পদ্মা) নদীর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে এবং পানির সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করবে।

গবেষণায় উঠে এসেছে, ভারতের ফারাক্কা ব্যারেজের কারণে পদ্মা নদীর পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়, যার ফলে বাংলাদেশে কৃষি, মৎস্য, বনায়ন, নৌচলাচলসহ নানা ক্ষেত্রে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। প্রকল্পটির মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান হতে পারে।

প্রকল্পটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হিসেবে ২.১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারাজে ৭৮টি স্পিলওয়ে গেট, নৌযান চলাচলের জন্য নেভিগেশন লক এবং দুটি ফিশ পাসের ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া, এই ব্যারাজের মাধ্যমে ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে নদী ব্যবস্থার পুনঃখনন এবং সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের বাস্তবায়ন হলে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পানি সরবরাহ নিশ্চিত হবে এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ১৯ লাখ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে এবং প্রায় ৭৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকার আর্থিক সুফল প্রাপ্তি সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই প্রকল্পটি বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

সূত্র: টিবিএস