/
/
/
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন ২০২৬’ সম্মেলন অনুষ্ঠিত
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন ২০২৬’ সম্মেলন অনুষ্ঠিত
Byলাল সবুজ প্রকাশ
Published২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
১১:০৩ পূর্বাহ্ণ
516646823_1181868137288453_5875725774706969096_n
লাল সবুজ প্রকাশ
বাংলাদেশের তারুণ্য নেতৃত্বাধীন উন্নয়ন-ভিত্তিক মিডিয়া প্লাটফর্ম লাল সবুজ প্রকাশ। শিশু-কিশোর-তরুণদের চোখে অধিকার, জলবায়ু, সমতা, ন্যায্যতা ও সত্যের গল্পের খোঁজে গ্রাম থেকে শহর, পাহাড় থেকে চরের কথা তুলে ধরি আমরা। তুলে ধরি তাদের সৃজনশীলতা, ছড়াই সচেতনতার বার্তা।

কনটেন্টটি শেয়ার করো

Copied!

সর্বশেষ

Untitled design (8)

জ্বালানি রূপান্তরে প্রযুক্তি ও অর্থায়নের পাশাপাশি জেন্ডার সমতা, অন্তর্ভুক্তি ও ন্যায্যতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে ‘জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন ২০২৬’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনে। তিনটি অধিবেশনে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে তৃণমূলের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে নীতিনির্ধারণ ও বিনিয়োগ সুপারিশে যুক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিজয় সরণির সামরিক জাদুঘরের মাল্টিপারপাস হলে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) এর উদ্যোগে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে যাওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিসহ নীতিনির্ধারক, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, উন্নয়ন সহযোগী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, গবেষক, গণমাধ্যমকর্মী এবং তরুণ ও নারী নেতৃত্ব অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম।

স্বাগত বক্তব্যে শাহীন আনাম বলেন, জলবায়ু ঝুঁকি নারী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ওপর তুলনামূলকভাবে বেশি প্রভাব ফেলে। তাই নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে এসব বাস্তবতার প্রতি সংবেদনশীল হতে হবে। বিশেষ করে গৃহস্থালি রান্নার মতো ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ জ্বালানির গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যে দলই সরকার গঠন করুক না কেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।

সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে জ্বালানি নীতি ও সুশাসনে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। অধিবেশনে আলোচকরা বলেন, কোনো জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে জ্বালানি রূপান্তর ন্যায্য হতে পারে না। মূল প্রবন্ধে নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ ঘরোয়া রান্নার জ্বালানিকে আবশ্যিক প্রয়োজন হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি কমিউনিটি গ্রিড, বিকেন্দ্রীভূত অর্থায়ন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি নির্দেশিকার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।

দ্বিতীয় অধিবেশনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ব্যবসা ও অর্থায়নে জেন্ডার সমতার বিষয়টি উঠে আসে। আলোচকরা বলেন, জলবায়ু সংকট নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে জরুরি বিকল্প হিসেবে সামনে এনেছে। তবে এ খাতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে দক্ষতা উন্নয়ন, সহজ অর্থায়ন ও প্রণোদনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে পুরুষদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তৃতীয় অধিবেশনে রাজনৈতিক দলগুলোর জবাবদিহি ও অঙ্গীকার নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচকরা বলেন, সংলাপের বাইরে গিয়ে এখন অঙ্গীকারে পৌঁছানোর সময় এসেছে। জলবায়ু বাস্তবতায় নির্বাচনী ইশতেহারে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি থাকা জরুরি। বক্তারা জ্বালানি খাতে নারীদের অদৃশ্য অবস্থান, সিদ্ধান্ত গ্রহণে পুরুষতান্ত্রিক আধিপত্য এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

সম্মেলনে আরও বলা হয়, নবায়নযোগ্য জ্বালানির রূপান্তর প্রক্রিয়ায় যেন নারী, প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী পিছিয়ে না পড়ে। এই রূপান্তর হতে হবে ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং মানুষের কল্যাণমুখী।