

দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর গুঁটি গুঁটি পায়ে যুব নেতৃত্বে এগিয়ে নিয়ে চলা সংগঠন ‘লাল সবুজ সোসাইটি’। সম্প্রতি এ সংগঠনটি জায়গা করে নিয়েছে সরকারের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর নিবন্ধনের তালিকায়।
গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত এনজিও হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে লাল সবুজ সোসাইটি। এদিন বেলা ১১টায় এনজিও ব্যুরোর মহাপরিচালকের স্বাক্ষরিত পত্রটি লাল সবুজ সোসাইটির সভাপতি তাহসীন উদ্দীনের হাতে তুলে দেন এনজিও ব্যুরোর মহাপরিচালক দাউদ মিয়া।
২০১০ সালের মে মাসে প্রতিষ্ঠাতা তাহসীন উদ্দীন তার বন্ধু ফাহিম সৌরভ আর নাজমুল হক নাঈম-কে সাথে নিয়ে শুরু করেছিলো ‘লাল সবুজ’র যাত্রা। তখন সবাই ১৩ বছরের কিশোর।
সুদীর্ঘ প্রায় দেড়যুগ পর সেই ‘লাল সবুজ’ এখন ‘লাল সবুজ সোসাইটি’ এবং যা বর্তমানে এনজিও হিসেবে সরকারের নিবন্ধন অর্জন করেছে। যা দেশের হাজার হাজার তরুণ-তরুণীর পরিশ্রমের ফল এবং একঝাঁক তরুণ-তরুণীর সাহসী উদ্যমের প্রতীক হিসেবে সফলতা অর্জন করেছে বলে জানায় সংগঠনের সংশ্লিষ্টরা।
২০১০ সালে ছোট একটি উদ্যোগ হিসেবে শুরু হওয়া “লাল সবুজ সোসাইটি” আজ বাংলাদেশের প্রায় দুই লাখেরও বেশি মানুষের মাঝে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন, কর্মশালা, প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামের মাধ্যমে এনেছে ইতিবাচক পরিবর্তন। “এনগেজিং ইয়ুথ ফর পজিটিভ চেঞ্জ” স্লোগানকে সামনে রেখে জাতিসংঘ ঘোষিত অন্তত সাতটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অনুসরণ করে কাজ করছে সংগঠনটি।
এই সংগঠনটি তরুণদের উদ্যোগে এবং বরিশালে প্রকাশিত ‘লাল সবুজ’ নামক একটি মাসিক পত্রিকা দিয়ে তার যাত্রা শুরু করে। এরপর ২০১৫ সালে ‘লাল সবুজ ফাউন্ডেশন’ হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয় সংগঠনটি এবং ২০১৯ সালে লাল সবুজ সোসাইটির নামে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিবন্ধন লাভ করে।
বর্তমানে এই সংগঠনটি দেশের ৩৫ জেলায় আড়াই হাজারেরও বেশি তরুণদের সাথে সরাসরি যুক্ত করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এছাড়া, নেপাল, মালয়েশিয়ায় নেতৃত্ব দল গঠনের পাশাপাশি আরও বেশ কিছু দেশে সম্প্রসারণ করছে তাদের কাজ।
এনজিও ব্যুরোর নিবন্ধন লাভ করায় উচ্ছ্বসিত সংস্থাটির সদস্য, শুভাকাঙ্ক্ষীরা। দীর্ঘ ১৬ বছরের স্বপ্নের পূর্ণতা পেয়েছে জানিয়ে শুভেচ্ছা বার্তা প্রদান করছে শুভাকাঙ্ক্ষীরা, আপ্লুত হয়ে পড়েন সংগঠনের সাথে সরাসরি জড়িতরা।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠাতা তাহসীন বলেন, আমরা একই সাথে আনন্দিত এবং দায়িত্ব বাড়েছে। এই দায়িত্বকে সম্মান রেখেই সামনে এগিয়ে যেতে আরও কাজ করে যাবো আমরা।
এছাড়াও ভলান্টিয়ার কো-অর্ডিনেটর আজিজুন তমা বলেন, গত ১৬ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিরলসভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসা প্রতিটি ভলান্টিয়ারের অবদানই এই অর্জনের মূল শক্তি। লাল সবুজ সোসাইটি এনজিও হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি লাভ করায় এটি শুধু আমাদের জন্য নয়, বরং দেশের সকল যুব সংগঠনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
দায়িত্বশীল ও কার্যকর যুব নেতৃত্ব গড়ে তুলতে একটি শক্তিশালী পাথেয় হিসেবে কাজ করবে লাল সবুজ সোসাইটি বলে আশা ব্যক্ত করেছেন তিনি। সেইসাথে সামনের দিনগুলোতে আরও বেশি দায়িত্বশীলতা ও স্বচ্ছতার সাথে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারও করছেন।