

স্বাস্থ্য ও সুস্থতা নিয়ে ব্যবহারকারীদের উদ্বেগ এবং গোপনীয়তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ওপেনএআই ‘চ্যাটজিপিটি হেলথ’ নামে নতুন একটি ফিচার চালু করেছে। বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা এই ফিচারটি ব্যবহারকারীদের জন্য স্বাস্থ্যসংক্রান্ত আলোচনাকে আরও সংগঠিত ও সুরক্ষিত করার লক্ষ্য নিয়ে এসেছে।
এতদিন ব্যবহারকারীরা সাধারণ চ্যাটের মধ্যেই রোগ, উপসর্গ কিংবা চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রশ্ন করতেন। ওপেনএআই জানিয়েছে, প্রতি সপ্তাহে প্রায় ২৩ কোটি মানুষ চ্যাটজিপিটিতে স্বাস্থ্য ও ওয়েলনেস নিয়ে প্রশ্ন করেন। নতুন হেলথ ফিচারে এসব আলোচনা আলাদা একটি পরিসরে রাখা হবে, যাতে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যতথ্য অন্য সাধারণ কথোপকথনের সঙ্গে মিশে না যায়।
এই ব্যবস্থার ফলে স্বাভাবিক চ্যাটের সময় হঠাৎ করে আগের কোনো স্বাস্থ্যসংক্রান্ত প্রসঙ্গ উঠে আসার সম্ভাবনা কমবে। এমনকি কেউ যদি সাধারণ চ্যাটে স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা শুরু করেন, তাহলে চ্যাটজিপিটি নিজেই তাকে হেলথ ফিচার ব্যবহারের পরামর্শ দেবে।
তবে পুরোপুরি বিচ্ছিন্নতা নয় , প্রয়োজনে ব্যবহারকারীর সাধারণ চ্যাট থেকে কিছু প্রাসঙ্গিক তথ্য চ্যাটজিপিটি হেলথে বিবেচনায় নিতে পারবে। একই সঙ্গে ওপেনএআই স্পষ্ট করেছে, এই হেলথ ফিচারের কথোপকথন তাদের এআই মডেল প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার করা হবে না।
ওপেনএআইয়ের অ্যাপ্লিকেশন বিভাগের সিইও ফিদজি সিমো এক ব্লগ পোস্টে জানান, স্বাস্থ্যসেবায় বিদ্যমান নানা জটিলতা ও সীমাবদ্ধতার প্রেক্ষিতেই এই ফিচার চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যখাতে এআই ব্যবহারের সঙ্গে নতুন ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চ্যাটজিপিটির মতো বড় ভাষাভিত্তিক মডেলগুলো মূলত সম্ভাব্য উত্তর অনুমান করে দেয়। এগুলোর নিজস্ব সত্য-মিথ্যা বোঝার ক্ষমতা নেই, ফলে কখনো কখনো ভুল বা কল্পিত তথ্যও তৈরি হতে পারে।
এই কারণেই ওপেনএআই তাদের শর্তাবলীতে আগেই জানিয়েছে, চ্যাটজিপিটি কোনো রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করার জন্য তৈরি নয়।
ওপেনএআই আরও জানিয়েছে, চ্যাটজিপিটি হেলথ ফিচারটি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ধাপে ধাপে ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।