

দৈনন্দিন জীবনের ছোট একটি অভ্যাস। প্লাস্টিক স্ট্র ব্যবহার অজান্তেই বড় পরিবেশগত সংকট তৈরি করছে। একবার ব্যবহার করে ফেলে দেওয়া এই প্লাস্টিক স্ট্র ধীরে ধীরে প্রকৃতিতে মিশে মাইক্রোপ্লাস্টিকে পরিণত হয় এবং প্রায় ২০০ বছর পর্যন্ত পরিবেশে থেকে যায়। এর প্রভাব পড়ে মাটি, পানি, প্রাণবৈচিত্র্য এমনকি মানবস্বাস্থ্যের ওপরও। এই বাস্তবতা সামনে রেখে পরিবেশ দূষণ রোধ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে দেশে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক স্ট্র সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিবেশ অধিদপ্তর এ বিষয়ে একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, প্লাস্টিক স্ট্র সাধারণত পুনঃব্যবহার করা হয় না এবং পুনঃচক্রায়নও অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক নয়। ফলে পরিবেশসম্মত উপায়ে এর সংগ্রহ ও নিষ্পত্তি সম্ভব হয় না, যা দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ জুন ২০২৫ থেকে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক স্ট্রের উৎপাদন, আমদানি, বাজারজাতকরণ, বিক্রয়, ব্যবহার, মজুদ, প্রদর্শন এবং বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই উদ্যোগকে পরিবেশ সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্লাস্টিক স্ট্রের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই সামগ্রী ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। কাগজের স্ট্র সহজে মাটিতে মিশে যায়, কাঁচের স্ট্র স্বাস্থ্যসম্মত ও পুনঃব্যবহারযোগ্য, আর স্টেইনলেস স্টিলের স্ট্র দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও সাশ্রয়ী এমন বিকল্প ব্যবহারে জনসাধারণ ও ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
পরিবেশ রক্ষার এই লড়াইয়ে সবার সম্মিলিত সচেতনতা জরুরি বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। কারণ, আজকের ছোট সচেতন পদক্ষেপই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সুস্থ ও টেকসই পৃথিবী গড়ে তুলতে পারে।