

নির্বাচনের আগের ঢাকা মানেই যেন একটু থেমে যাওয়া শহর। চেনা রাস্তাগুলো অচেনা লাগে, চিরচেনা কোলাহলটা কোথায় যেন হারিয়ে যায়। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোট দিতে বাড়ি ফেরা মানুষের ঢলে রাজধানী আজ হঠাৎ করেই অনেকটা হালকা।
গুলশান ১ থেকে শুরু করে অফিসপাড়া, বাণিজ্যিক এলাকা কিংবা আবাসিক সড়ক সবখানেই মানুষের উপস্থিতি কম। যানজট নেই বললেই চলে, অফিসগামী মানুষের তাড়াহুড়া চোখে পড়ে না। ফাঁকা রাস্তায় রিকশা আর পাঠাওয়ের মতো রাইডশেয়ারিং মোটরসাইকেলগুলো দ্রুত ছুটে চলছে। দৃশ্যটা অনেকটাই ঈদের আগমুহূর্তের মতো এক ধরনের নীরব স্বস্তি শহরজুড়ে।
এই সময়টায় সবচেয়ে চোখে পড়ে গণপরিবহনের সংকট। বাসস্টপে যাত্রীর ভিড় নেই, অনেক রুটে বাস পাওয়া যাচ্ছে না। যেগুলো চলছে, সেগুলোও তুলনামূলক ফাঁকা। পরিবহন শ্রমিকদের বড় একটি অংশ গ্রামের বাড়ি ফিরে যাওয়ায় ঢাকার চিরচেনা ধাক্কাধাক্কি আর হুড়োহুড়ির দৃশ্য আপাতত উধাও।
ফাঁকা সড়কের সুযোগে রিকশাচালক আর রাইডশেয়ারিং চালকদের ব্যস্ততা বেড়েছে। যানজট না থাকায় যাত্রা হচ্ছে দ্রুত, আয়ও তুলনামূলক ভালো। অনেক রিকশাচালক বলছেন, ঢাকায় এমন ফাঁকা রাস্তা সাধারণত ঈদের সময়ই দেখা যায়।
গুলশান ১-এর মতো অভিজাত এলাকাতেও এখন অন্যরকম নীরবতা। বড় গাড়ির চাপ কম, ট্রাফিক সিগন্যালে দীর্ঘ অপেক্ষা নেই। ফুটপাথ ফাঁকা, দোকানপাট আর রেস্তোরাঁয় ব্যস্ততা কম। শহরের প্রাণ যেন সাময়িকভাবে গ্রামমুখী।
এই দৃশ্য নতুন নয়। ঈদের আগে কিংবা জাতীয় নির্বাচনের সময় ঢাকায় এমন চিত্র বারবার ফিরে আসে। তবে প্রতিবারই এই নীরবতা মনে করিয়ে দেয় ঢাকা কতটা বহিরাগত শ্রমজীবী মানুষের ওপর নির্ভরশীল। আর সেই অনুপস্থিতিই দেখিয়ে দেয়, চাপ কিছুটা কমলে রাজধানীর চেহারা কতটা বদলে যেতে পারে।