

প্রাণীদের সঙ্গে মানুষের সরাসরি কথা বলার সুযোগ নেই। তাই তারা তাদের অনুভূতি, ভয়, আনন্দ কিংবা অস্বস্তির কথা জানায় শরীরের ভাষার মাধ্যমে। এই শরীরী ভাষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো লেজ। অনেক প্রাণীর ক্ষেত্রে লেজ শুধু শরীরের ভারসাম্য রক্ষার অঙ্গ নয়, বরং এটি আবেগ প্রকাশের একটি শক্তিশালী মাধ্যম।
কুকুরের কথাই ধরা যাক। খুশি হলে কুকুর সাধারণত শিথিলভাবে লেজ নাড়ায়। আবার উত্তেজিত বা অতিরিক্ত আনন্দিত হলে লেজ দ্রুত নড়তে থাকে। বিপরীতে, ভয় পেলে বা অনিরাপদ বোধ করলে কুকুর লেজ গুটিয়ে দুই পায়ের ফাঁকে ঢুকিয়ে রাখে। কখনো কখনো লেজ শক্ত করে সোজা রাখাও সতর্কতা বা হুমকির সংকেত হতে পারে। অর্থাৎ লেজের অবস্থান ও নড়াচড়া কুকুরের মনের অবস্থার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
বিড়ালের ক্ষেত্রেও লেজ আবেগ বোঝার গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি। তবে কুকুরের মতো একই অর্থ বহন করে না। অনেক সময় বিড়ালের লেজ এপাশ-ওপাশ করা মানেই আনন্দ নয়। বরং এটি স্নায়ুবিক চাপ, বিরক্তি বা অস্বস্তির প্রকাশ হতে পারে। খুশি বিড়ালের লেজ সাধারণত সোজা থাকে, অনেক সময় লেজের ডগা হালকা কাঁপে। আবার লেজ ফুলে উঠলে বা শক্ত হয়ে গেলে তা ভয় বা আক্রমণাত্মক মানসিকতার লক্ষণ।
শুধু কুকুর বা বিড়ালই নয়, অনেক প্রাণীই লেজের মাধ্যমে বার্তা দেয়। ঘোড়ার লেজের দ্রুত নড়াচড়া বিরক্তি বা অস্বস্তির ইঙ্গিত হতে পারে। বানরেরা লেজ ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ ও আবেগ প্রকাশ করে। এমনকি কিছু বন্য প্রাণী দলগতভাবে চলার সময় লেজের ভঙ্গির মাধ্যমে একে অন্যকে সতর্ক সংকেতও দেয়।
তবে মনে রাখা জরুরি, লেজ কখনো একা কোনো আবেগের পূর্ণ ব্যাখ্যা দেয় না। প্রাণীর আবেগ বুঝতে হলে লেজের সঙ্গে সঙ্গে মুখের ভঙ্গি, শরীরের অবস্থান, চলাফেরা ও পরিবেশ সব মিলিয়ে দেখতে হয়। তবেই প্রাণীর অনুভূতির ভাষা সঠিকভাবে বোঝা সম্ভব।
লেজ তাই প্রাণীদের নীরব ভাষার একটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ। এই ভাষা বুঝতে পারলে মানুষ ও প্রাণীর সম্পর্ক আরও গভীর ও নিরাপদ হয়ে উঠতে পারে।