/
/
রমজানে স্বাস্থ্যকর খাবার: ইফতার ও সেহরিতে সচেতনতার পরামর্শ
রমজানে স্বাস্থ্যকর খাবার: ইফতার ও সেহরিতে সচেতনতার পরামর্শ
Byadminsr
Published
২:৩৭ অপরাহ্ণ
516646823_1181868137288453_5875725774706969096_n
লাল সবুজ প্রকাশ
বাংলাদেশের তারুণ্য নেতৃত্বাধীন উন্নয়ন-ভিত্তিক মিডিয়া প্লাটফর্ম লাল সবুজ প্রকাশ। শিশু-কিশোর-তরুণদের চোখে অধিকার, জলবায়ু, সমতা, ন্যায্যতা ও সত্যের গল্পের খোঁজে গ্রাম থেকে শহর, পাহাড় থেকে চরের কথা তুলে ধরি আমরা। তুলে ধরি তাদের সৃজনশীলতা, ছড়াই সচেতনতার বার্তা।

কনটেন্টটি শেয়ার করো

Copied!

সর্বশেষ

Ramadan-healthy-iftar-in-Bangladesh

পবিত্র রমজান মাসে রোজাকে কেন্দ্র করে খাদ্যাভ্যাসে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর ইফতার ও সেহরিতে অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি এবং ভারী খাবার গ্রহণ করেন। চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা বলছেন, সঠিক খাদ্য নির্বাচন ও পরিমিত আহার নিশ্চিত করা গেলে রমজানেই স্বাস্থ্যের উন্নতি সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টানা ১২-১৩ ঘণ্টা রোজা রাখার পর ইফতারে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও চর্বিযুক্ত খাবার খেলে হজমের সমস্যা, বুক জ্বালাপোড়া, গ্যাস্ট্রিক ও ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ে। রমজানে খাবারের বৈচিত্র্য বাড়লেও দৈনিক পুষ্টিচাহিদার কথা মাথায় রেখে খাদ্যতালিকা নির্ধারণ করা জরুরি।

ইফতারে কী খাবেন

রমজান এলে বিকেল থেকেই বিভিন্ন স্থানে ইফতারির পসরা সাজানো হয়। ছোলা, মুড়ি, পিঁয়াজু, বেগুনি, ডালবড়া, আলুর চপ, হালিম, জিলাপি, বুন্দিয়া, জালি কাবাবসহ নানা ভাজাপোড়া খাবারের পাশাপাশি বিভিন্ন রঙিন শরবত ও ফলের রস বিক্রি হয়। তবে এসব খাবার কতটা স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে তৈরি হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

পুষ্টিবিদরা বলছেন, খোলা ও রাস্তার খাবার এড়িয়ে চলাই উত্তম। একই তেল বারবার ব্যবহার করলে ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান তৈরি হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অপরিষ্কার পরিবেশে তৈরি খাবার থেকে পেটের পীড়াসহ নানা রোগ হতে পারে।

ইফতার শুরু করা উচিত খেজুর ও বিশুদ্ধ পানি দিয়ে। এর সঙ্গে মৌসুমি ফল, ছোলা, শসা, দই বা ঘরে তৈরি হালকা শরবত রাখা যেতে পারে। অতিরিক্ত তেহারি, বিরিয়ানি, হালিম ও ভাজাপোড়া পরিহার করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। রুচি পরিবর্তনের জন্য সীমিত পরিমাণে মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়া যেতে পারে।

এ ছাড়া ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত অন্তত দেড় থেকে দুই লিটার পানি পান করা প্রয়োজন, যাতে পানিশূন্যতা এড়ানো যায়।

সেহরিতে সুষম খাবার জরুরি

সেহরি রোজার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই বেশি সময় না খেয়ে থাকতে হবে ভেবে অতিরিক্ত খাবার খান, যা মোটেই সঠিক নয়। চিকিৎসকদের মতে, সেহরিতে পরিমিত ভাত বা রুটি, ডাল, সবজি, মাছ বা মাংস খাওয়া যেতে পারে। খাবার হওয়া উচিত সহজপাচ্য ও কম মসলাযুক্ত।

অতিরিক্ত লবণাক্ত ও ঝাল খাবার তৃষ্ণা বাড়ায়, তাই তা এড়িয়ে চলা উচিত। প্রক্রিয়াজাত পানীয়ের বদলে বিশুদ্ধ পানি পান করাই উত্তম।

সুস্থ থাকতে কিছু পরামর্শ

বিশেষজ্ঞরা রমজানে সুস্থ থাকতে কয়েকটি বিষয় মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন-

অতিভোজন থেকে বিরত থাকা

খাবার ধীরে ধীরে ও ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়া

ইফতার ও সেহরির মাঝখানে পর্যাপ্ত পানি পান করা

অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা

নিয়মিত ওষুধ সেবনকারীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া

ইফতারের পর হালকা ব্যায়াম করা

পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া

চিকিৎসকদের মতে, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন নিশ্চিত করা গেলে রমজান মাস হতে পারে শরীর ও মনের সুস্থতা অর্জনের একটি উত্তম সুযোগ।