

নেত্রকোনার মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নের রাজানীকান্দা গ্রামে ফরিংখালী নদীর ভয়াবহ ভাঙনে ২৬টি পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে ৭ থেকে ৮টি ঘর ভিটেমাটিসহ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মঙ্গলবার (৩ জুন) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীভাঙনের কারণে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
রাজানীকান্দা গ্রামের ষাটোর্ধ্ব বাসিন্দা আব্দুল হক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “১২ বছর মানুষের বাড়িতে থেকেছি। ছেলেদের নিয়ে কষ্ট করে এখানে বাড়ি করেছি। কিন্তু নদী সব ভেঙে নিয়ে যাচ্ছে।”
আরেক বাসিন্দা ইউনুস আহমাদ বলেন, “আমাদের এই রাজানীকান্দা থেকে প্রায় ২০০ হাত পশ্চিমে নদী ছিল। কিন্তু নদী ভাঙতে ভাঙতে এখন বসতভিটায় এসে আঘাত হেনেছে। প্রায় এক মাস আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ দেখতে আসেনি।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য টিটু মিয়া জানান, একসময় নদীটি বসতবাড়ি থেকে অনেক দূরে ছিল। কিন্তু ক্রমাগত ভাঙনের ফলে এখন বাড়িঘর ও বসতভিটা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে গোবিন্দশ্রী থেকে কদমশ্রী বেইন্নে বাজারগামী ডিসি সড়কও ভেঙে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
স্থানীয় শিক্ষক মিলাদ হোসেন বলেন, “প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিলে নদীভাঙন রোধ করা সম্ভব। তা না হলে শুধু ঘরবাড়িই নয়, এলাকার গুরুত্বপূর্ণ পাকা সড়কও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।”
গোবিন্দশ্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাইদুল ইসলাম খান মামুন বলেন, “নদীভাঙনে রাজানীকান্দার কয়েকটি পরিবার ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আরও অনেক বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। পাশাপাশি কদমশ্রী সকাল বাজার থেকে গোবিন্দশ্রী পর্যন্ত পাকা সড়কটিও হুমকির মুখে পড়বে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম বলেন, “আমি সম্প্রতি এ উপজেলায় যোগদান করেছি। নদীভাঙনের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি অবগত হলাম। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে নদীভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে রাজানীকান্দার আরও বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়বে এবং গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।