/
/
/
নির্মল বায়ু, জ্বালানি ও জলবায়ু ন্যায়বিচারের লক্ষ্যে সম্মিলিতভাবে ১০ দফা দাবি উপস্থাপন
নির্মল বায়ু, জ্বালানি ও জলবায়ু ন্যায়বিচারের লক্ষ্যে সম্মিলিতভাবে ১০ দফা দাবি উপস্থাপন
ByMozammel Haque Hridoy
Published১৭ জানুয়ারি, ২০২৬
৩:২৪ অপরাহ্ণ
1762172769579
Mozammel Haque Hridoy
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর এর গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে লাল সবুজ প্রকাশের সাব-এডিটর হিসেবে কর্মরত। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন সিজে ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা, সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও ‘Northify’ এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও দৈনিক দেশ রূপান্তরের বেরোবি প্রতিনিধি ছিলেন।

কনটেন্টটি শেয়ার করো

Copied!

সর্বশেষ

the earth 1

নির্মল বায়ু, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জলবায়ু ন্যায়বিচারের লক্ষ্যে ১০ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়েছে। ‘ন্যাশনাল ইয়ুথ ডায়লগ অন ক্লিন এয়ার এন্ড রিনিউবল এনার্জি ইন ইলেকশন ম্যানিফেস্টো’ শীর্ষক এক সংলাপে বিভিন্ন সংগঠন ও নানা পর্যায়ের ব্যক্তির উপস্থিতিতে সম্মিলিতভাবে এ দাবি উত্থাপন করা হয়।  এসময় ঘোষণাপত্রটি অবিলম্বে নির্বাচনী ইশতেহার ও জাতীয় পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণে প্রতিফলিত হবে বলে প্রত্যাশা করেন তারা।
আজ শনিবার(১৭ জানুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্লানার্সে ইয়ুথ ফর কেয়ারের আয়োজনে, দ্যা আর্থের অর্থায়নে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এ আয়োজনে সহ-আয়োজক হিসেবে লাল সবুজ সোসাইটি,গ্রিন সেভার্স এসোসিয়েশন, ইকো নেটওয়ার্ক, বিএমএসএস, বিডিএফ,মিশন গ্রিন বাংলাদেশ, সৌহার্দ্য ইয়ুথ ফাউন্ডেশন, উই ক্যান, ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার, ইয়ুথ নেট গ্লোবালসহ মোট ১০ টি পরিবেশবাদী ও যুব নেতৃতাধীন সংগঠন।
জানা যায়, এ আয়োজনে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারক, রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী, নারী, আদিবাসী, শ্রমজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণী এবং জ্বালানি প্রকল্প-প্রভাবিত জনগণের সম্মিলিত কণ্ঠে এ ঘোষণা উত্থাপন করা হয়েছে। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে পরিবেশ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের উপর গুরুত্ব দিয়ে তারা এ ১০ দফা দাবি উপস্থাপন করেছে।
প্রথম দাবি হিসেবে, ঢাকাসহ সারা দেশে নির্মল বায়ু আইন, ২০১৯-এর তাৎক্ষণিক বাস্তবায়ন দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি, পরিবেশ অধিদপ্তর পরিচালিত বায়ুমান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের রিয়েল-টাইম বায়ুমান তথ্য জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানানো হয়। বড় শিল্পকারখানায় কন্টিনিউয়াস এমিশন মনিটরিং সিস্টেম বাধ্যতামূলক করার প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে।

দ্বিতীয়ত, নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশীদারিত্ব ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৪০ শতাংশে পুনঃনির্ধারণের দাবি করা হয়। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিদ্যুৎ খাতে পরবর্তী বাজেটে কমপক্ষে ৪০ শতাংশ বরাদ্দ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তৃতীয় দাবি হিসেবে, “সোলার সিটি” ধারণনাকে বাস্তবায়ন এবং প্রতিটি গৃহে ছাদকেন্দ্রিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে ‘সূর্যবাড়ি’ কর্মসূচি গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
চতুর্থ দাবি হিসেবে, মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট অনুমোদন এবং হুইলিং চার্জ নির্ধারণের জন্য স্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করার দাবি উঠেছে।
পঞ্চমত, এলএনজি আমদানি ব্যয়ের ক্রমবর্ধমান চাপ কমানোর জন্য একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন, নতুন এলএনজি টার্মিনাল বাতিল এবং বিদ্যমান অতিরিক্ত সক্ষমতার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার দাবি জানানো হয়েছে।

ষষ্ঠ দাবি হিসেবে, জীবাশ্ম জ্বালানির ভর্তুকি ধীরে ধীরে প্রত্যাহার করে শিল্প ও বাণিজ্য খাতে সবুজ জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে।

সপ্তম দাবি হিসেবে, পরিবারভিত্তিক সোলার সিস্টেমে ২৫ শতাংশ ভর্তুকি এবং ৭০ শতাংশ পর্যন্ত সহজ ঋণ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

অষ্টম দাবিতে, ইভি (ইলেকট্রিক ভেহিকেল) এর উপর ৭৫% করছাড় এবং উন্নতমানের ব্যাটারি আমদানি শূন্য করের দাবি করা হয়েছে।
নবম দাবিতে,  জ্বালানি নীতিমালায় নারী, আদিবাসী, শ্রমজীবী এবং দরিদ্র জনগণের অধিকার ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
দশম এবং শেষ দাবি হিসেবে, কৃষি জমি রক্ষায় জমি অধিগ্রহণের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কৃষিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ ও এগ্রিভোলটাইক্স প্রকল্পে প্রণোদনা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আয়োজকরা জানায়, এই ১০ দফা দাবি কেবল পরিবেশ ও জ্বালানি নীতির জন্য নয় বরং এটি একটি ন্যায়সঙ্গত, স্বাস্থ্যকর ও টেকসই বাংলাদেশের রোডম্যাপ হিসেবেও চিহ্নিত করা হচ্ছে। সম্মিলিত এই দাবি জাতীয় পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণে অবিলম্বে প্রতিফলিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তারা আরো জানায়, ‘সম্মিলিত এই দাবির মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি পরিবেশবান্ধব, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই পৃথিবী গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
এ সময় তারা নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও নির্মল বায়ুর গুরুত্ব আরোপ করে এ দায়িত্বে নিজেদের সম্পৃক্ততা ও দায়িত্ব পালনে যথাযথভাবে যুক্ত থেকে ভবিষ্যত গড়ার আহ্বান জানান।