/
/
জেনে নাও আগামীতে চাকরির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ১০ দক্ষতা
জেনে নাও আগামীতে চাকরির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ১০ দক্ষতা
ByMozammel Haque Hridoy
Published২৪ জানুয়ারি, ২০২৬
১১:২৩ পূর্বাহ্ণ
1762172769579
Mozammel Haque Hridoy
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর এর গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে লাল সবুজ প্রকাশের সাব-এডিটর হিসেবে কর্মরত। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন সিজে ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা, সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও ‘Northify’ এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও দৈনিক দেশ রূপান্তরের বেরোবি প্রতিনিধি ছিলেন।

কনটেন্টটি শেয়ার করো

Copied!

সর্বশেষ

10 skills

একসময় একটি প্রতিযোগিতামূলক জীবনবৃত্তান্তে (সিভি)‘মাইক্রোসফট অফিসে দক্ষতা’ থাকলেই বড় যোগ্যতা হিসেবে ধরা হতো। কিন্তু সেই সময় এখন অতীত। শেষ দশকে এসে চাকরির বাজার বদলে যাচ্ছে অভূতপূর্ব গতিতে। এর পেছনে প্রধান চালিকা শক্তি হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অটোমেশন এবং ডিজিটাল রূপান্তর।
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ)-এর সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা গেছে, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৪৪ শতাংশ কর্মীর মূল দক্ষতা পরিবর্তন করা জরুরি হবে। অর্থাৎ কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে যা শিখেছে তা আর আজীবনের জন্য যথেষ্ট নয়। ভবিষ্যতে টিকে থাকার মূল চাবিকাঠি হলো, নতুন কিছু শেখার মানসিকতা এবং পুরোনো অভ্যাস ভুলে যাওয়ার সক্ষমতা।
তাহলে আগামী দিনে নিয়োগকর্তারা ঠিক কী ধরনের দক্ষতা খুঁজছে? চল জেনে নেওয়া যাক ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে টিকে থাকার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ১০টি দক্ষতা-

১. এআই লিটারেসি ও প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং
এটি এখন আর বিকল্প নয় বরং বাধ্যতামূলক দক্ষতা। বিভিন্ন এআই টুল ব্যবহার করে কাজের সময় কমানো এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানোই এর মূল লক্ষ্য।
২. বিশ্লেষণী চিন্তা ও জটিল সমস্যা সমাধান
শুধু ডেটা বিশ্লেষণই নয়, বরং অস্পষ্ট ও জটিল ব্যবসায়িক সমস্যাকে ভেঙে কার্যকর সমাধান বের করার ক্ষমতা অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠছে।
৩. আবেগগত বুদ্ধিমত্তা (ইকিউ) ও সহমর্মিতা
হাইব্রিড ও রিমোট কর্মপরিবেশে সহকর্মীদের আবেগ বুঝে কাজ করা এবং সুস্থ কর্মসম্পর্ক বজায় রাখাই বড় শক্তি।
৪. ডেটা স্টোরিটেলিং ও ভিজ্যুয়ালাইজেশন
সংখ্যা ও তথ্যকে গল্পে রূপ দিতে পারলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হয়। তাই ডেটাকে সহজ ও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করার দক্ষতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
৫. স্থিতিস্থাপকতা, নমনীয়তা ও দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা
একটি দক্ষতার ‘হাফ লাইফ’ এখন মাত্র আড়াই বছর। অর্থাৎ দ্রুত শেখা, দ্রুত বদলানো এবং পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়াই ভবিষ্যৎ।
৬. নেতৃত্ব ও সামাজিক প্রভাব
ম্যানেজার না হয়েও দলকে অনুপ্রাণিত ও প্রভাবিত করার ক্ষমতা এখন অত্যন্ত মূল্যবান হয়ে উঠেছে।
৭. টেকসই উন্নয়ন ও ইএসজি দক্ষতা
পরিবেশ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও করপোরেট শাসন এখন শুধু নীতিগত বিষয় নয়, অনেক ক্ষেত্রে আইনগত প্রয়োজনও হয়ে দাঁড়িয়েছে।
৮. সাইবার সিকিউরিটি ও ডিজিটাল হাইজিন
ফিশিং, ডেটা সুরক্ষা ও অনলাইন নিরাপত্তা সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞান এখন সবার জন্য জরুরি।
৯. ইউএক্স ও ডিজিটাল প্রোডাক্ট ডিজাইন
যে পণ্য ব্যবহার করা সহজ এবং গ্রাহকের অভিজ্ঞতা ভালো, সেটিই বাজারে টিকে থাকবে। তাই ইউজার এক্সপেরিয়েন্স ডিজাইনের গুরুত্ব বাড়ছে।
১০. প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট (অ্যাজাইল ও স্ক্রাম)
দ্রুত বদলানো লক্ষ্য পূরণে অ্যাজাইল ও স্ক্রাম পদ্ধতিতে কাজ করার দক্ষতা নিয়োগকর্তাদের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠছে।

ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে টিকে থাকতে হলে এখন থেকেই নিজেকে নতুন দক্ষতায় সমৃদ্ধ করার সময়। শুধু ডিগ্রি নয়, আজকের দিনে সবচেয়ে বড় যোগ্যতা হলো শেখার আগ্রহ ও পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতা। তুমি যত দ্রুত নিজেকে আপডেট করবে, ততই ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকবে।