

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় ক্ষমতাসীন সরকারের পাশাপাশি একটি সংগঠিত ও কার্যকর বিরোধী দল গণতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় এই ভূমিকা আরও কাঠামোবদ্ধ করতে গড়ে উঠেছে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ ব্যবস্থা। এটি এমন একটি রাজনৈতিক কাঠামো, যার মাধ্যমে বিরোধী দল সরকারকে নজরদারিতে রাখে এবং বিকল্প নীতির প্রস্তাব দেয়।
ছায়া মন্ত্রিসভা কী
ছায়া মন্ত্রিসভা (Shadow Cabinet) হলো সংসদের প্রধান বিরোধী দলের গঠিত একটি সমান্তরাল মন্ত্রিসভা। ক্ষমতাসীন সরকারের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে বিরোধী দল একজন করে ‘ছায়া মন্ত্রী’ নির্ধারণ করে। যেমন, সরকারের অর্থমন্ত্রী থাকলে বিরোধী দল একজন ‘ছায়া অর্থমন্ত্রী’ মনোনীত করে, যিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের নীতি, বাজেট ও সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণ করেন এবং প্রয়োজন হলে সমালোচনা বা বিকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। এই প্রথা বিশেষভাবে প্রচলিত রয়েছে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডা–এর মতো ওয়েস্টমিনস্টার মডেলের দেশগুলোতে।
কেন গঠিত হয়
ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রধান উদ্দেশ্য হলো সরকারকে জবাবদিহির আওতায় রাখা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করা। ছায়া মন্ত্রীরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করেন, সংসদে প্রশ্ন তোলেন এবং নীতিগত সমালোচনা করেন। তারা কেবল সরকারের ভুল তুলে ধরেন না, বরং বিকল্প ও কার্যকর নীতিমালাও প্রস্তাব করেন। একই সঙ্গে এই কাঠামো বিরোধী দলকে ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকতে সহায়তা করে।
কারা গঠন করে
সাধারণত সংসদের প্রধান বিরোধী দল বা বৃহত্তম বিরোধী জোট ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করে। বিরোধী দলের নেতা সদস্যদের মনোনয়ন দেন এবং দলের অভিজ্ঞ ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে ছায়া মন্ত্রী নির্বাচন করা হয়। যেসব দেশে এই প্রথা চালু আছে, সেখানে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত রাজনৈতিক কাঠামোর অংশ। তবে অনেক দেশে অনানুষ্ঠানিকভাবেও বিরোধী দল নিজেদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যমে একই ধরনের ভূমিকা পালন করে থাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, শক্তিশালী বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র কার্যকরভাবে পরিচালিত হতে পারে না। সেই দিক থেকে ছায়া মন্ত্রিসভা একটি সুস্থ ও জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।