

‘২০২৫ সালে এশিয়ার সেরা ২০ সিনেমা’র তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের তিনটি সিনেমা। তালিকার ৫ নম্বরে রয়েছে মেহেদী হাসানের বালুর নগরীতে, ১৭ নম্বরে সৌমিত্র দস্তিদারের জুলাই ৩৬: রাষ্ট্র বনাম নাগরিক এবং ১৯ নম্বরে নুহাশ হুমায়ূনের ২ষ। চলচ্চিত্রবিষয়ক ওয়েবসাইট এশিয়ান মুভি পালস এই তালিকা প্রকাশ করেছে।
এশিয়ান সিনেমাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে ২০০৯ সাল থেকে কাজ করছে এশিয়ান মুভি পালস। তারা চলচ্চিত্র সমালোচনা, ফেস্টিভ্যাল কাভারেজ ও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে এশীয় সিনেমার প্রচার করে থাকে। ২০১৯ সাল থেকে নিয়মিতভাবে এশিয়ার সেরা সিনেমার তালিকা প্রকাশ করছে প্ল্যাটফর্মটি। শৈল্পিক বৈচিত্র্য, গল্প বলার ধরন, ভিন্নধর্মী জনরা, সামাজিক আন্দোলন ও সাংস্কৃতিক পটভূমিকে গুরুত্ব দিয়ে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
এশিয়ান মুভি পালসের প্রতিবেদনে বলা হয়, সমকালীন এশীয় সিনেমা দিন দিন আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করছে। পিছিয়ে থাকা দেশগুলোও শৈল্পিক সিনেমা নির্মাণে এগিয়ে আসছে। ইতিহাস, স্মৃতি ও রাষ্ট্রীয় সহিংসতার প্রশ্ন নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলনামূলকভাবে বিরল।
তালিকার শীর্ষে রয়েছে ইরানের ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান অ্যাক্সিডেন্ট। জাফর পানাহি পরিচালিত সিনেমাটি গত বছর কান চলচ্চিত্র উৎসবে স্বর্ণপাম জয় করে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইরাকের ইরকালা: ড্রিমস অব গিলগামেশ, তৃতীয় স্থানে ইরানের কাটিং থ্রো রকস এবং চতুর্থ স্থানে সৌদি আরবের হিজরা। পঞ্চম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের বালুর নগরীতে।
এশিয়ান মুভি পালসের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সিনেমা সম্পর্কে বলা হয়েছে, “এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের সিনেমার উত্থানকে আর উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। নানা ঘরানা ও ফরম্যাটে আত্মবিশ্বাসী পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে নির্মাতারা নিজেদের আলাদা জায়গা তৈরি করছেন।”
‘বালুর নগরীতে’ সিনেমাটি সম্পর্কে বলা হয়েছে, এটি একটি ছোট পরিসরের আর্টহাউস রত্ন, যার ছন্দ মসৃণ ও আরামদায়ক গতিতে এগিয়ে যায়। ভিক্টোরিয়া চাকমা অভিনীত এমা চরিত্রকে ঘিরে গল্পটি আবর্তিত হয়েছে। বিড়ালের লিটার বক্সের জন্য শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে বালু সংগ্রহ করতে গিয়ে একদিন একটি আঙুল খুঁজে পান এমা। সিনেমাটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয়েছিল গত বছর কার্লোভি ভেরি চলচ্চিত্র উৎসবে, যেখানে এটি গ্র্যান্ড জুরি পুরস্কার পায়। পরবর্তীতে গ্লাসগো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবসহ বিশ্বের বিভিন্ন উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে।
‘জুলাই ৩৬: রাষ্ট্র বনাম নাগরিক’ সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধের দলিল। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের পটভূমিতে নির্মিত সিনেমাটিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় বাংলাদেশের তরুণদের সংগ্রাম ও ভবিষ্যৎ পুনর্গঠনের লড়াই তুলে ধরা হয়েছে।
নুহাশ হুমায়ূনের ‘২ষ’ নিয়ে বলা হয়েছে, এটি কয়েকটি অসাধারণ গল্পের মাধ্যমে দর্শকদের মুগ্ধ করে। এটি একটি প্রশংসনীয় অ্যানথোলজি সিরিজ, যেখানে প্রচলিত হররের বদলে মানুষের অন্তর্গত লালসা ও ক্রোধকে ভয়ের গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।
এশিয়ান মুভি পালসের এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের সিনেমার জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের নির্মাতাদের শৈল্পিক সক্ষমতা ও বৈচিত্র্যময় গল্প বলার শক্ত অবস্থানকে এটি আরও দৃঢ় করল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।