

ভ্যালেন্টাইনস ডে বা ভালোবাসা দিবস প্রতি বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি পালিত হয়। এই দিনে মানুষ তাদের প্রিয়জনকে ভালোবাসা প্রকাশ করে কার্ড, ফুল, চকলেট বা অন্য কোনো উপহার পাঠিয়ে। এটি সেই দিন যখন কেউ তার অনুভূতি আর ভালোবাসার বার্তা দিয়ে অন্যকে আনন্দ দেয়।
কে ছিলেন সেন্ট ভ্যালেন্টাইন?
ভালোবাসা দিবসের নাম এসেছে একজন খ্রিস্টীয় ধর্মযাজক সেন্ট ভ্যালেন্টাইন থেকে। জনপ্রিয় গল্প অনুযায়ী, তিনি ৩য় শতাব্দীর রোমের একজন পুরোহিত ছিলেন। সেই সময়ে সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াস বিবাহ নিষিদ্ধ করেছিলেন, কারণ তার ধারণা ছিল বিবাহিত পুরুষরা ভালো সৈন্য হতে পারবে না।
তবে ভ্যালেন্টাইন মনে করেছিলেন এটি অন্যায়। তিনি গোপনে যুবক ও যুবতীদের বিয়ে সম্পন্ন করাতেন। সম্রাট ক্লডিয়াস যখন এ বিষয়ে জানতে পারেন, তখন ভ্যালেন্টাইনকে কারাগারে বন্দি করা হয় এবং মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
কারাগারে থাকা অবস্থায় ভ্যালেন্টাইন কারা প্রধানের মেয়ের প্রেমে পড়েন। মৃত্যুর আগে, ১৪ ফেব্রুয়ারি, তিনি মেয়েটির উদ্দেশ্যে একটি প্রেমপত্র লিখে পাঠান, যেখানে তিনি স্বাক্ষর করেছিলেন: “From your Valentine”।
ভ্যালেন্টাইনস ডে কীভাবে শুরু হলো?
প্রথম ভ্যালেন্টাইনস ডে উদযাপিত হয়েছিল ৪৯৬ সালে। এই উদযাপন রোমান উৎসব লুপারকালিয়া থেকে উদ্ভূত। রোমানরা ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে বসন্তকালের শুরুতে এই উৎসব পালন করতেন। এই সময়ে ছেলেরা মেয়েদের নাম লেখা চিরকুট তুলতেন, আর যার নাম কার হাত লাগত, তারা সেই সময় প্রেমিক-প্রেমিকা হিসেবে সময় কাটাতেন। অনেক সময় ওই যুগল বিয়ে করেও ফেলত।
পরে খ্রিস্টান গির্জা এই উৎসবকে খ্রিস্টান ধর্মীয় উৎসবে রূপান্তর করে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের স্মরণে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। ধীরে ধীরে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের নামটি মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠে, আর এই নাম ব্যবহার করে মানুষ তাদের প্রিয়জনের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে শুরু করে।