

নতুন বছরে ঘন কুয়াশার চাদর ভেদ করে যখন সূর্যের রশ্মি ছড়িয়ে পড়ে, তখন চারদিক যেন সোনালি আভায় মোড়া হয়ে ওঠে। শীতের কামড়ে হাড় পর্যন্ত ঠান্ডা হলেও এই আলো মনে জাগায় এক অদ্ভুদ উষ্ণতা—যেন প্রকৃতি নিজেই বলছে, শুরু হোক নতুন এক অধ্যায়।
বছরের এই সময়ে মানুষ দাঁড়ায় এক অদৃশ্য দ্বারপ্রান্তে। পিছনে ফেলে আসা বছরের স্মৃতিগুলো—কখনো গর্বের, কখনো অনুশোচনার—আলতো করে ছুঁয়ে যায় মন। সামনে তাকিয়ে দেখে অনিশ্চয়তায় ঘেরা এক বিশাল পথ। তবু হৃদয়ে জাগে নতুন স্বপ্ন, নতুন প্রতিজ্ঞা। আমরা পরিকল্পনা করি, লক্ষ্য ঠিক করি, এগিয়ে চলার শক্তি সঞ্চয় করি।
নতুন বছরে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভাবনা ও চাওয়ার কথা তুলে ধরেছেন সালমান হোসেন।
‘প্রত্যাশা , প্রাপ্তি ও প্রত্যয়ের মধ্য দিয়ে আমাদের জীবনে এক নতুনত্ব আসুক ২৫ এর প্রাপ্তিতে সন্তুষ্ট থেকে, সকল গ্লানি ভুলে, ভুল-ভ্রান্তি হীনতাকে শুধরে নিয়ে ২৬ কে বরণ করে নিই। বিগত দিনের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে, নতুন প্রত্যয়ে, নতুন উদ্যমে শুরু হোক নতুন বছর। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে একাডেমিক এক্সিলেন্সির পাশাপাশি আমরা যেন নিজেদের ভিতরকার সত্তায় একটি পবিত্র হৃদয় গড়ে তুলি, মনের দিক থেকে একজন বিনয়ী ও পজিটিভ মানুষ হিসেবে তৈরি হতে পারি- এ হোক নতুন বছরের মূল প্রত্যয়।
নতুন সময়ে, নতুন আঙ্গিকে নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা একাডেমিক পড়াশোনা, গবেষণার পাশাপাশি সৎ ও নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন একজন দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠুক।আমাদের ক্যাম্পাস সকল স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ ও আশ্রয়ের আঙিনা হয়ে উঠুক।
আমাদের সকলের তরে পরিবেশ, চিন্তাধারা, অগোছালো জীবনধারায় একটা বিচিত্র দৃশ্যের আবির্ভাব ঘটুক নতুনত্বের ছোঁয়ায়। যে পরিবেশ আমাদেরকে মাটিতে দুলিয়ে দিতে চায় সেখানে পাহাড় গড়ে দেখানোর স্বপ্নটা দেখতে চাই, দেখাতে চাই। দুমড়ে মুচড়ে নিজেকে আবারও নতুন সকালের উষ্ণ প্রভাতের ছায়া বুনতে চাই। নতুন বছরের সুন্দরতম প্রতিশ্রুতি হিসেবে অন্যের মতামতকে শ্রদ্ধা করার পাশাপাশি আমাদেরকে প্রচুর বিনয়ী হওয়াটা জরুরি। সবশেষে আত্নার যত্ন নেওয়াটা আরো বেশি জরুরি।’
-ওমর ফারুক, পরিসংখ্যান বিভাগ (২৪-২৫ সেশন)
‘নতুন বছরে আমরা নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে দেখতে চাই বিশ্বায়নের যুগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড স্মার্ট ক্যাম্পাস হিসেবে। ডিজিটাল ক্লাসরুম, স্মার্ট লার্নিং সিস্টেম এবং প্রযুক্তিভিত্তিক পাঠদান ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষা হবে আরও কার্যকর, গতিশীল ও যুগোপযোগী।
একই সঙ্গে একটি সমন্বিত ও ব্যবহারবান্ধব স্টুডেন্ট পোর্টাল চালুর মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম, ফলাফল, ফি পরিশোধ, নোটিশ ও বিভিন্ন একাডেমিক সেবা হবে দ্রুত, স্বচ্ছ ও সহজলভ্য। এতে শিক্ষার্থী ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে আসবে আধুনিকতার নতুন মাত্রা।
পাশাপাশি আধুনিক ই-লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
এমন একটি ডিজিটাল নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আধুনিক শিক্ষা, গবেষণা ও স্মার্ট ক্যাম্পাস বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রিয় ক্যাম্পাসকে এগিয়ে নিয়ে যাবে ভবিষ্যতের পথে—এই প্রত্যাশাই নতুন বছরে আমাদের সবার।’
-আরিফুল হাসান, আইআইটি বিভাগ (২৪-২৫ সেশন)
আগামীর সংকল্প
২০২৫ রেখে গেলো সুখ-দুঃখের হাজারো স্মৃতি।
মনে করতে চাইনা পচিশের এডমিশনের সময়টা,
পেছনে তাকালেই দেখি অঘুমে কাটানো রাত,
ভবিষ্যৎ গড়ার এক অটুট দৃঢ় সংকল্প ।
তবে শেষটা ছিলো অভাবনীয় ; যা স্বপ্নাতীত।
পেলাম ১০১ একরের এক সু-বিশাল ক্যাম্পাস।
২০২৬ হাজির হলো এক নতুন শপথ হাতে,
ভয় নয়—এবার বিশ্বাস লিখবো প্রতি পাতায়।
সময়ের পাতায় আজ সাহসের স্বাক্ষর দিই,
হার নয়—জয়কেই এবার সঙ্গী করে এগোবো।
নোবিপ্রবি—এক স্বপ্নের ঠিকানা, দক্ষিণের প্রাণ,
আমাদের স্বপ্নের উপকূলীয় অক্সফোর্ড।
ক্লাসরুম, ক্যাম্পাস , বন্ধুত্বের নির্ভরতা,
শান্তিনিকেতনে বসে দেখতে পাওয়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ।
নীলদীঘি বসে কল্পনায় বুনতে থাকা আগামীর স্বপ্ন।
নতুন বছর বলে—নিজেকে বদলে নাও,
নোবিপ্রবি বলে—আলো ছড়িয়ে দাও।
২০২৫ শেখালো কষ্টে হয় প্রস্তুতির সোপান,
২০২৬ বলছে—এবার গড়ো সফলতার সিঁড়ি।
-মো: মোস্তাফিজুর রহমান ফারিব, শিক্ষা বিভাগ (২৪-২৫ সেশন)