/
/
/
পান্থকুঞ্জ পার্ক ও হাতিরঝিল রক্ষায় ফের আন্দোলন
পান্থকুঞ্জ পার্ক ও হাতিরঝিল রক্ষায় ফের আন্দোলন
Byশরিফুর রহমান
Published১৮ জানুয়ারি, ২০২৬
৫:২৬ অপরাহ্ণ
WhatsApp Image 2025-09-04 at 11.09.11 AM
শরিফুর রহমান
শরিফুর রহমান, গ্রাফিক আর্টস ইনস্টিটিউট থেকে গ্রাফিক ডিজাইনে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি লাল সবুজ প্রকাশে গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে কাজ করছেন। সৃজনশীল নকশার মাধ্যমে সামাজিক উদ্যোগকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলাই তার মূল লক্ষ্য। সামনে সাংবাদিকতা বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার স্বপ্ন দেখেন তিনি।

কনটেন্টটি শেয়ার করো

Copied!

সর্বশেষ

photo11111

ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সবুজ এলাকা ও জলাধার পান্থকুঞ্জ পার্ক ও হাতিরঝিল রিজার্ভার রক্ষার দাবিতে আবারও সোচ্চার হয়েছেন পরিবেশবাদী ও নাগরিক সমাজ। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই দুই পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থান ধ্বংসের আশঙ্কায় নতুন করে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশবিদদের মতে, বর্তমানে ঢাকা এক ভয়াবহ জলবায়ু ও পরিবেশ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ সবুজ এলাকার পরিমাণ এখন মাত্র ৭ শতাংশ এবং জলাভূমি নেমে এসেছে ৩ শতাংশেরও নিচে। ফলে ঢাকা ক্রমশ বসবাসের অনুপযোগী নগরীতে পরিণত হচ্ছে। এই অবস্থায় পান্থকুঞ্জ পার্ক ও হাতিরঝিল রিজার্ভার ধ্বংস হলে ঢাকার পরিবেশ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কারওয়ান বাজার এলাকার ফুসফুস হিসেবে পরিচিত পান্থকুঞ্জ পার্ক ছিল স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য একমাত্র খোলা জায়গা। ঘনবসতিপূর্ণ কাঁঠালবাগান এলাকায় পার্কটি শিশুদের খেলার মাঠ, প্রবীণদের হাঁটার জায়গা এবং সামাজিক মিলনকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তবে গত সাত বছর ধরে নানা উন্নয়ন প্রকল্পের অজুহাতে পার্কটি বন্ধ রাখা হয়েছে।
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের র‍্যাম্প নির্মাণের কারণে পান্থকুঞ্জ পার্কে ৪০ প্রজাতির দুই হাজারেরও বেশি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পরিবেশকর্মীরা। এতে পার্কের জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
একইভাবে, ঢাকার অন্যতম প্রধান জলাধার হাতিরঝিলে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য ৪১টি পিলার বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে পিলার নির্মাণের জন্য মাটি ও বালু ফেলার ফলে জলপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে মাছ ও জলজ প্রাণীর আবাসস্থল এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে হাতিরঝিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাতিরঝিল ঢাকার বায়ুদূষণ কমানো, জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ, তাপমাত্রা হ্রাস এবং নগর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। এই জলাধার ক্ষতিগ্রস্ত হলে ঢাকার ‘আরবান হিট আইল্যান্ড’ সংকট আরও তীব্র হবে।
পরিবেশবাদীদের অভিযোগ, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি বাংলাদেশের সংবিধানের ১৮ক অনুচ্ছেদ, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও জলাভূমি সুরক্ষা আইনের সরাসরি লঙ্ঘন। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার গ্লোবাল বায়োডায়ভার্সিটি ফ্রেমওয়ার্ক ২০৩০-এরও পরিপন্থী।
জানা যায়, ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর পরিবেশ ও জলবায়ু কর্মী নয়ন সরকারের নেতৃত্বে সেভ ফিউচার ফাউন্ডেশ’ ব্যানারে পান্থকুঞ্জ পার্কে বসে পড়া কর্মসূচি শুরু হয়। পরে বিটিপিএম এর উদ্যোগে মানববন্ধন ও টানা অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়।
প্রায় ১৬৯ দিন ধরে চলা এই আন্দোলনের ফলে একসময় নির্মাণকাজ স্থগিত রাখা হয় এবং উচ্চ আদালত পান্থকুঞ্জ পার্ক ও হাতিরঝিল রক্ষার নির্দেশ দেন। তবে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে আবারও নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে।
পাঁচ দফা দাবি
আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলো হলো—
মগবাজার এফডিসি থেকে পালাশী পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে লিংক রোড ও র‍্যাম্প নির্মাণ বাতিল, হাতিরঝিল থেকে সকল পিলার অপসারণ ও পান্থকুঞ্জ পার্ক পুনরুদ্ধার, প্রকল্পের সব কারিগরি ও পরিবেশগত প্রতিবেদন প্রকাশ, প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত ,নির্মাণকাজে নিহত শ্রমিকদের হত্যার বিচার।
বর্তমান পরিস্থিতিতে নাগরিক সমাজ ও পরিবেশবাদীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।