

সালমান হোসাইন, নোবিপ্রবি সংবাদদাতাঃ
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবন আজ চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। সংস্কার ও মানোন্নয়নের অজুহাতে বন্ধ থাকা এই ক্যাফেটেরিয়াটি কেবল একটি খাবার সরবরাহ কেন্দ্র নয়; এটি শিক্ষার্থীদের খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও মানসিক সুস্থতার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। অথচ বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর অগ্রগতি না হওয়ায় বিষয়টি এখন প্রশাসনিক অবহেলার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়াটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তখন কর্তৃপক্ষ জানায়, অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ, নিম্নমানের খাবার ও স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরও আগে, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে শিক্ষার্থীরা খাদ্যের মান উন্নয়নসহ ১১ দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক ও শিক্ষকদের ক্যান্টিনে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলনে নামেন। কিন্তু এসব ঘটনার পরও স্থায়ী সমাধানের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীদের অবস্থাও কম উদ্বেগজনক নয়। নোবিপ্রবিতে ছেলেদের দুটি হল রয়েছে, সালাম হল ও মালেক উকিল হল। সালাম হলের ডাইনিং কার্যক্রম চালু থাকলেও মালেক উকিল হলের ডাইনিং বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। ফলে অতিরিক্ত চাপ পড়ছে সালাম হলের ডাইনিংয়ের ওপর, যা আবাসিক শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা বাধ্য হচ্ছেন ক্যাম্পাসের বাইরের দোকানের ওপর নির্ভর করতে কিংবা নিজ উদ্যোগে রান্না করতে। এতে একদিকে যেমন অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে, অন্যদিকে খাদ্যের মান ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েও বাড়ছে অনিশ্চয়তা। এই পরিস্থিতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
এ বিষয়ে এক সাক্ষাৎকারে নোবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজুয়ানুল হক জানান, কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার কাজ দীর্ঘদিন ধরে চলমান। প্রথম দফায় টেন্ডার হলেও উপযুক্ত ঠিকাদার না পাওয়ায় পুনরায় টেন্ডার দিতে হয়েছে। পরে ঠিকাদার পাওয়া গেলেও কাজের গতি ছিল অত্যন্ত ধীর। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও দীর্ঘসূত্রিতা এড়ানো যায়নি। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে ফার্নিচার, কুকিং রেঞ্জ ক্রয় ও জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ক্যাফেটেরিয়াটি চালু করা সম্ভব হবে।
প্রসঙ্গত, এর আগে শিক্ষকদের জন্য দ্রুততম সময়ে একটি লাউঞ্জ প্রতিষ্ঠা করা গেলেও চালু করা যায়নি শিক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট ক্যাফেটেরিয়াটি। বরং বাস্তবতা হলো এই দীর্ঘ প্রতীক্ষা শিক্ষার্থীদের জন্য দিন দিন অসহনীয় হয়ে উঠছে। একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ সময় ধরে কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার মতো মৌলিক সুবিধা বন্ধ থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে শিক্ষার্থীদের জোরালো দাবি অতি দ্রুত কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার সংস্কার কাজ সম্পন্ন করে তা উন্মুক্ত করা হোক এবং স্বাস্থ্যকর, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ খাদ্যব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।
শিক্ষার্থীদের ন্যায্য এই দাবির দ্রুত বাস্তবায়নই পারে ক্যাম্পাস জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে এবং প্রশাসনের দায়বদ্ধতার প্রমাণ দিতে।