

মানুষের অনুভূতি কখনো জটিল, কখনো রহস্যময়। অনেক সময় মনের গভীরে জমে থাকা কথাগুলো প্রকাশের সাহসই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় বাধা। ঠিক সেই না বলা অনুভূতিগুলোকে প্রকাশের অনুপ্রেরণা জোগাতেই এসেছে একটি বিশেষ দিন ‘প্রপোজ ডে’। ভালোবাসা যেখানে নীরবতা ছাড়িয়ে সাহসী প্রকাশে রূপ নেয়, সেখানেই এই দিনের গুরুত্ব।
প্রতি বছর ৮ ফেব্রুয়ারি তরুণদের জীবনে আসে এক ভিন্ন আবহ নিয়ে ‘প্রপোজ ডে’। বিশ্বজুড়ে পরিচিত এই দিনটি ভালোবাসার অনুভূতিকে প্রকাশ করার প্রতীক হিসেবে উদযাপিত হয়। যদিও এটি কোনো দেশীয় ঐতিহ্যের অংশ নয়, তবুও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দিনটি আমাদের সমাজেও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
এই দিনটিতে অনেকেই নিজের মনের কথা জানাতে খোঁজেন একটু সাহস, একটু উপলক্ষ। কারও জন্য এটি হয় দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান, আবার কারও জন্য জীবনের এক স্মরণীয় মুহূর্তের শুরু।
কথিত আছে, প্রপোজ ডে’র সূচনা মূলত পশ্চিমা পপ কালচার থেকে। সিনেমা, গান ও সাহিত্যের চরিত্ররা ভালোবাসা প্রকাশের জন্য এই দিনটিকে বিশেষভাবে তুলে ধরতে শুরু করে। প্রথমদিকে এটি ছিল ব্যক্তিগত এক মুহূর্ত একটি ছোট্ট কিন্তু সাহসী প্রেমের স্বীকারোক্তি। সময়ের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব এবং তরুণদের উন্মুক্ত মানসিকতার কারণে দিনটি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি পায়।
বাংলাদেশেও এখন প্রপোজ ডে তরুণ সমাজের মধ্যে এক ধরনের অনানুষ্ঠানিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সবখানেই দেখা যায় ভালোবাসা প্রকাশের নানা রঙ। কেউ প্রিয় মানুষকে চকলেট উপহার দেয়, কেউ লেখে ছোট্ট একটি কার্ড, আবার কেউ সাহস করে মুখে বলেই ফেলে নিজের অনুভূতির কথা।
প্রপোজ ডে শুধু ভালোবাসা জানানোর দিন নয়; এটি নিজের অনুভূতির প্রতি সৎ থাকার, ভয় কাটিয়ে এগিয়ে যাওয়ার একটি প্রতীক। পশ্চিমা সংস্কৃতি থেকে এলেও আমাদের তরুণ সমাজ এই দিনটিকে নিজেদের মতো করে গ্রহণ করেছে যেখানে ভালোবাসা, বন্ধুত্ব আর সাহসের ছোট ছোট গল্প তৈরি হয় প্রতিটি মুহূর্তে।