/
/
/
নবজাগরণের বার্তা নিয়ে এলো বসন্ত
নবজাগরণের বার্তা নিয়ে এলো বসন্ত
Byলাল সবুজ প্রকাশ
Published১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
১০:৫১ পূর্বাহ্ণ
516646823_1181868137288453_5875725774706969096_n
লাল সবুজ প্রকাশ
বাংলাদেশের তারুণ্য নেতৃত্বাধীন উন্নয়ন-ভিত্তিক মিডিয়া প্লাটফর্ম লাল সবুজ প্রকাশ। শিশু-কিশোর-তরুণদের চোখে অধিকার, জলবায়ু, সমতা, ন্যায্যতা ও সত্যের গল্পের খোঁজে গ্রাম থেকে শহর, পাহাড় থেকে চরের কথা তুলে ধরি আমরা। তুলে ধরি তাদের সৃজনশীলতা, ছড়াই সচেতনতার বার্তা।

কনটেন্টটি শেয়ার করো

Copied!

সর্বশেষ

Untitled design (17)

প্রকৃতির বুকে আজ নবপ্রাণের স্পন্দন। বসন্তের রঙিন ছোঁয়ায় চারদিক যেন নতুন করে জেগে উঠেছে। কচি পাতার সবুজ, আগুনরাঙা শিমুল পলাশের উচ্ছ্বাস আর মৃদু দখিনা হাওয়ার পরশে প্রকৃতি গাইছে নতুন জীবনের গান। যেন হৃদয় উন্মোচনেরই আহ্বান সব ভেদাভেদ ভুলে রঙ ও গন্ধে ভরে ওঠার আমন্ত্রণ।

আজ পয়লা ফাল্গুন ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন। মাঘের শেষ বিকেলের শীতলতা আজ ভোরের সূর্যোদয়ের সঙ্গে মিলিয়ে গেছে। মহানগরের ধূসর ইট পাথরের চেহারা ছাপিয়ে রাজপথজুড়ে এখন বাসন্তী রঙের উচ্ছ্বাস। বাতাসে বইছে নরম উষ্ণতার ছোঁয়া, মনেও লাগছে নতুনের দোলা।

শহরের পথে পথে বসন্তের সাজ। তরুণীদের পরনে হলুদ, বাসন্তী আর কমলা শাড়ি, মাথায় গাঁদা ফুলের মুকুট; আর তরুণদের রঙিন পাঞ্জাবি ও ফতুয়ায় উৎসবের রঙ। এই রঙিন উপস্থিতি যেন মুহূর্তেই শহরের যান্ত্রিকতা মুছে দিয়ে সৃষ্টি করে উৎসবমুখর আবহ।

এবার পয়লা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস একই দিনে হওয়ায় আনন্দে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। বসন্ত উৎসবের চিরচেনা স্থান পরিবর্তন হলেও উৎসবের আবেগ অটুট। সীমিত পরিসরে হলেও মানুষের হৃদয়ে বসন্তের রঙ ছড়িয়ে পড়েছে আগের মতোই।

বসন্ত মানেই নতুনের ডাক। যেমন রুক্ষ মাটির বুক চিরে জন্ম নেয় সবুজ ঘাস, তেমনি মানুষের মন থেকেও দূর হয় ক্লান্তি ও বিষাদ। এই ঋতু প্রাণে জাগায় এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা, নবজীবনের প্রত্যাশা।

গ্রামবাংলায় বসন্তের রূপ আরও মোহনীয়। আম্রকাননে মুকুলের ঘ্রাণ, পলাশ–শিমুলের লাল আভা, পুকুরপাড়ে ঝরে পড়া শজনে ফুল সব মিলিয়ে প্রকৃতি যেন নতুন সাজে সেজেছে। বসন্ত শুধু রঙের উৎসব নয়, এটি নবজাগরণেরও প্রতীক।

ফাল্গুনকে বলা হয় ফুলের মাস। বনে–বাগানে পলাশের আগুনরাঙা ছটা, রক্তকাঞ্চনের গাঢ় রং, শিমুলের নরম পাপড়ি আর অশোকের মুগ্ধতা মিলিয়ে প্রকৃতি হয়ে ওঠে রঙের উৎসব। বাতাসে ভেসে আসে মুকুলের ঘ্রাণ, কোকিলের কুহুতানে ভরে ওঠে চারদিক। শীতের মলিনতা মুছে দিয়ে প্রকৃতি নেয় নতুন রূপ।

তবে বসন্তের শেষভাগ চৈত্রে এসে প্রকৃতির রূপ বদলায়। ফুলের উচ্ছ্বাস কমে, বাড়ে তাপ। রোদের তীব্রতা, ধুলোমাখা বাতাস আর শুষ্কতার মধ্যে গ্রীষ্মের আগমনী বার্তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তবু চৈত্রেরও আছে নিজস্ব সৌন্দর্য ঝরাপাতার শব্দ আর বিকেলের হলদেটে আলোয় তৈরি হয় এক অন্যরকম আবেশ।

বাংলার লোকজ সংস্কৃতিতে চৈত্রসংক্রান্তি নতুন বছরের প্রস্তুতির সময়। জরা ও ক্লান্তি ঝেড়ে নতুন সূচনার প্রত্যাশায় মানুষ মেতে ওঠে মেলা ও উৎসবে।

আজকের বাস্তবতায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঋতুচক্রও কিছুটা বদলে গেছে। বনভূমি কমে যাওয়া ও নগরায়ণের চাপে শিমুল–পলাশ ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। তবু ঋতুরাজ প্রতি বছর ফিরে আসে তার চিরচেনা রূপে, মনে করিয়ে দেয় শীতের নিস্তব্ধতার পর নবজাগরণ অনিবার্য।

বসন্ত তাই শুধু ঋতু নয়, এটি আশার নাম নতুন করে বাঁচার, নতুন করে শুরু করার প্রেরণা।