

একসময় উচ্চশিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে কম ছিল। তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সেই চিত্র বদলেছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে নারী শিক্ষার্থীরা নিজেদের শিক্ষা ও ক্যারিয়ার নিয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জিং পেশায় যুক্ত হচ্ছেন এবং অ্যাকাডেমিক অঙ্গনে শক্ত অবস্থান তৈরি করছেন।
প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে বিদেশে পাড়ি জমান। এ ক্ষেত্রে নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ দিন দিন বাড়ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তা পুরুষদের সমপর্যায়ে পৌঁছেছে। নারীদের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে সহায়তা করতে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা বিশেষ স্কলারশিপ ও ফেলোশিপ চালু করেছে। আজ আমরা বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য সেরা পাঁচটি স্কলারশিপ সম্পর্কে জানব।
১. ব্রিটিশ কাউন্সিল স্কলারশিপ
দক্ষিণ এশিয়ার নারী শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (STEM) বিষয়ে স্কলারশিপ প্রদান করে ব্রিটিশ কাউন্সিল। ‘উইমেন ইন স্টেম’ কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাজ্যের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি বা আর্লি অ্যাকাডেমিক ফেলোশিপ অর্জনের সুযোগ দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে আবেদনের সময়সীমা ভিন্ন হতে পারে।
এই স্কলারশিপ প্রোগ্রামটি আমেরিকা, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নারীদের উন্নয়নের লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বৈশ্বিক অংশীদারত্বের অংশ। যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সুযোগ রয়েছে:
১) কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন
২) অ্যাংলিয়া রাসকিন ইউনিভার্সিটি
৩) ইউনিভার্সিটি অব গ্রিনউইচ
৪) ইউনিভার্সিটি অব সাউদাম্পটন
৫) কভেন্ট্রি ইউনিভার্সিটি
২. অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস স্কলারশিপ
অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস স্কলারশিপ (AAS) উন্নয়নশীল দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়া সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত একটি বৃত্তি কর্মসূচি। নেতৃত্বের গুণাবলি রয়েছে এবং ইতিবাচক পরিবর্তনে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা এ স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারেন।
প্রোগ্রামটি বিশেষভাবে তাদের জন্য, যারা পড়াশোনা শেষে নিজ দেশে ফিরে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখতে চান। ব্লু ইকোনমি, স্বাস্থ্য, শিল্প-বাণিজ্য, পাবলিক পলিসি, অর্থনীতি ও সুশাসনসহ সাতটি অগ্রাধিকার খাতে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স পর্যায়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের আবেদন করতে বিশেষভাবে উৎসাহ দেওয়া হয়।
৩. ল’রিয়েল-ইউনেসকো ফর উইমেন ইন সায়েন্স ফেলোশিপ
বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, গণিত ও প্রকৌশল বিষয়ে গবেষণায় আগ্রহী নারী শিক্ষার্থীদের জন্য ল’রিয়েল-ইউনেসকো ফর উইমেন ইন সায়েন্স ফেলোশিপ একটি মর্যাদাপূর্ণ সুযোগ। ১৯৯৮ সাল থেকে ইউনেসকো ও ল’রিয়েল যৌথভাবে এই ফেলোশিপ প্রদান করে আসছে।
৪. জেনারেশন গুগল স্কলারশিপ
কম্পিউটার বিজ্ঞানে নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং তাদের নেতৃত্বগুণ বিকাশের লক্ষ্যে জেনারেশন গুগল স্কলারশিপ প্রদান করা হয়। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা ৭,০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পান।
৫. সিএফএ স্কলারশিপ
চার্টার্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালিস্ট (CFA) ইনস্টিটিউট নারীদের বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা খাতে ক্যারিয়ার গড়তে উৎসাহ দিতে বিশেষ স্কলারশিপ প্রদান করে। সিএফএ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ ও পেশাগত অগ্রগতির সুযোগ তৈরিই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। প্রতিবছর সাধারণত সেপ্টেম্বর মাসে এ স্কলারশিপের জন্য আবেদন গ্রহণ করা হয়।