

প্রখ্যাত বাংলাদেশি স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম সম্প্রতি তার উদ্ভাবনী ‘খুদি বাড়ি’ প্রকল্পের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় এসেছেন। আগা খান পুরস্কার ও ২০২১ সালের সোয়ান পদকজয়ী এই স্থপতি দেশের উপকূলীয় বন্যাপ্রবণ অঞ্চলের জন্য একটি অভিনব সমাধান নিয়ে কাজ করছেন যেখানে ভ্রাম্যমাণ, দোতলা ছোট ঘর তৈরি করে ভূমিহীন মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
এই ধারণার সূচনা হয় ২০১৮ সালের অক্টোবরে। পরে মহামারীর সময় অর্থনৈতিক স্থবিরতার কারণে যখন তার স্টুডিওর অন্যান্য প্রকল্প থমকে যায়, তখনই এই উদ্যোগ নতুন গতি পায়। ‘খুদি বাড়ি’ নামটির অর্থই ছোট্ট ঘর মূলত বাঁশ দিয়ে তৈরি, তবে শক্তিশালী করার জন্য এতে স্টিলের জয়েন্ট ও ধাতব সংযোগ ব্যবহার করা হয়। এর নকশা এমনভাবে করা যে ঘরটি সহজে খুলে অন্যত্র স্থানান্তর করা যায়।
ঘরটি দুই স্তরে বিভক্ত। নিচের অংশটি দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য, আর উপরের অংশটি মাটি থেকে প্রায় ছয় ফুট উঁচু যেখানে বন্যার সময় চারজন পর্যন্ত মানুষ নিরাপদে থাকতে পারে। এই নকশায় বাংলার ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যরীতির প্রভাব স্পষ্ট, যা স্থানীয় মানুষের কাছে এটিকে গ্রহণযোগ্য করে তোলে।
বাংলাদেশ, বিশেষ করে উপকূলীয় চরাঞ্চল, জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাবের মুখে। প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষ সেখানে বসবাস করে, যারা নিয়মিত বন্যা ও ভূমি ক্ষয়ের ঝুঁকিতে থাকে। এই বাস্তবতাকে মাথায় রেখেই তাবাসসুম সামাজিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় পরিবারগুলোকে এই ঘরগুলো প্রদান করছেন। প্রতিটি ঘর নির্মাণে খরচ পড়ে প্রায় ৪৫০ ডলার।
এই প্রকল্প পরিচালনার জন্য তার প্রতিষ্ঠান একটি অলাভজনক শাখা গঠন করেছে ফাউন্ডেশন ফর আর্কিটেকচার, কমিউনিটি, একুইটি। এর মাধ্যমে চাঁদপুরের চরাঞ্চল, কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির, কুড়িগ্রাম ও সুনামগঞ্জে এসব ঘর বিতরণ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০টি ‘খুদি বাড়ি’ নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে।
তাবাসসুমের মতে, জলবায়ু সংকটের এই সময়ে স্থায়ী স্থাপনার চেয়ে অভিযোজিত ও পরিবর্তনশীল স্থাপত্যই বেশি জরুরি। তার বিশ্বাস, মানুষের বাসস্থান সবসময় পরিবর্তনশীল এটি কখনোই শত বছরের স্থায়িত্বের জন্য তৈরি হওয়া প্রয়োজন নয়, বরং সময় ও প্রয়োজন অনুযায়ী বদলানোই এর প্রকৃত শক্তি।