/
/
বিদায় মুস্তাফা মনোয়ার
বিদায় মুস্তাফা মনোয়ার
Byলাল সবুজ প্রকাশ
Published
৪:১৫ অপরাহ্ণ
516646823_1181868137288453_5875725774706969096_n
লাল সবুজ প্রকাশ
বাংলাদেশের তারুণ্য নেতৃত্বাধীন উন্নয়ন-ভিত্তিক মিডিয়া প্লাটফর্ম লাল সবুজ প্রকাশ। শিশু-কিশোর-তরুণদের চোখে অধিকার, জলবায়ু, সমতা, ন্যায্যতা ও সত্যের গল্পের খোঁজে গ্রাম থেকে শহর, পাহাড় থেকে চরের কথা তুলে ধরি আমরা। তুলে ধরি তাদের সৃজনশীলতা, ছড়াই সচেতনতার বার্তা।

কনটেন্টটি শেয়ার করো

Copied!

সর্বশেষ

Monowar Mostofa

বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতির ইতিহাসে একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। দেশের বরেণ্য চিত্রশিল্পী, পাপেট শিল্পের পথিকৃৎ, টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই। সোমবার (২৯ জুন) সকালে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন ধরে নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এই গুণী শিল্পী। তাঁর মৃত্যুতে দেশের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর যশোর জেলার তৎকালীন মাগুরা মহকুমার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তাঁর পৈত্রিক নিবাস ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান হিসেবে সাহিত্য ও সংস্কৃতির আবহেই তাঁর বেড়ে ওঠা। শৈশব থেকেই শিল্পের প্রতি গভীর অনুরাগ তাঁকে নিয়ে যায় কলকাতা সরকারি চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে, যেখানে তিনি ১৯৫৯ সালে ফাইন আর্টসে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন।

চিত্রশিল্পী হিসেবে তাঁর পরিচয় যেমন উজ্জ্বল, তেমনি বাংলাদেশে পাপেট শিল্পকে জনপ্রিয় ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান অনন্য। অনেকের কাছেই তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ‘পাপেট ম্যান’। টেলিভিশনের জনপ্রিয় পাপেট অনুষ্ঠান, শিশুদের জন্য সৃজনশীল উপস্থাপনা এবং পাপেটভিত্তিক নাট্যচর্চার মাধ্যমে তিনি এক নতুন ধারার সূচনা করেছিলেন। তাঁর হাত ধরে পাপেট শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতার শক্তিশালী উপকরণ হিসেবেও পরিচিতি লাভ করে।

পাপেটের গণ্ডি পেরিয়ে মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন এক বহুমাত্রিক সৃষ্টিশীল ব্যক্তিত্ব। বাংলাদেশ টেলিভিশনের অনুষ্ঠান নির্মাণ, নাট্য নির্দেশনা, দ্বিতীয় সাফ গেমসের মিশুক নির্মাণ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পেছনের লাল সূর্যের প্রতিরূপ নকশাসহ নানা শিল্প ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগে তিনি রেখে গেছেন তাঁর স্বকীয় ছাপ। শিক্ষক, গবেষক, সাংস্কৃতিক সংগঠক এবং প্রশাসক হিসেবেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৬৫ সালে তিনি মেরী মনোয়ারকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেন। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। অস্কারজয়ী বাংলাদেশি অ্যানিমেটর নাফিস বিন জাফর তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র, যা শিল্প ও সৃজনশীলতার এক সমৃদ্ধ পারিবারিক উত্তরাধিকারের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।

মুস্তাফা মনোয়ারের প্রয়াণে বাংলাদেশ হারাল এমন একজন শিল্পীকে, যিনি রঙ, কল্পনা, পাপেট ও সংস্কৃতিকে এক সুতোয় গেঁথে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছেন। তাঁর তুলির আঁচড়, সৃষ্টিশীল চিন্তা এবং শিল্পের প্রতি নিবেদন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে চিরকাল উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। তাঁর সৃষ্টিকর্মই আগামী দিনের শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী ও তরুণদের জন্য হয়ে থাকবে অনুপ্রেরণার এক অমূল্য ভাণ্ডার।