/
/
তুষারপাতে চারদিন ধরে মৃত মালিককে আগলে রাখে কুকুর
তুষারপাতে চারদিন ধরে মৃত মালিককে আগলে রাখে কুকুর
ByMozammel Haque Hridoy
Published২৮ জানুয়ারি, ২০২৬
১০:৫১ পূর্বাহ্ণ
1762172769579
Mozammel Haque Hridoy
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর এর গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে লাল সবুজ প্রকাশের সাব-এডিটর হিসেবে কর্মরত। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন সিজে ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা, সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও ‘Northify’ এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও দৈনিক দেশ রূপান্তরের বেরোবি প্রতিনিধি ছিলেন।

কনটেন্টটি শেয়ার করো

Copied!

সর্বশেষ

Copy of lsp photo (30)

কয়েক দিন ধরে টানা তুষারপাত, চারদিকে বরফে ঢাকা পাহাড়ি এলাকা। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও খোলা আকাশের নিচে বরফের ওপর পড়ে থাকা একটি মরদেহের পাশে টানা চার দিন ধরে বসে ছিল একটি কুকুর। ভারতের হিমাচল প্রদেশের চাম্বা জেলায় ঘটে যাওয়া এই হৃদয়স্পর্শী ঘটনা ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং অসংখ্য মানুষের মন ছুঁয়ে গেছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, হিমাচল প্রদেশে ভয়াবহ তুষারপাতের মধ্যে চাম্বা জেলার ভারমৌর এলাকায় ভার্মাণী মন্দিরসংলগ্ন পাহাড়ি অঞ্চলে ঘুরতে বের হন বিকশিত রানা ও পীযূষ নামে দুই তরুণ। তাঁদের সঙ্গে ছিল পীযূষের পোষা পিটবুল জাতের কুকুরটি। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাঁরা ফিরে না আসায় শুরু হয় উদ্বেগ ও খোঁজাখুঁজি।

উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় বাসিন্দারা টানা চার দিন ধরে তীব্র ঠান্ডা, বরফঝড় ও তুষারপাত উপেক্ষা করে অনুসন্ধান চালান। পরে পাহাড়ের বরফে ঢাকা একটি এলাকায় দুই তরুণের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় উদ্ধারকারীরা যে দৃশ্য দেখেন, তা তাঁদের আবেগাপ্লুত করে তোলে।

পীযূষের মরদেহ বরফের ওপর পড়ে ছিল, আংশিকভাবে তুষারে ঢাকা। আর ঠিক পাশেই ঠায় বসে ছিল তাঁর পোষা কুকুরটি। ধারণা করা হচ্ছে, প্রচণ্ড ঠান্ডা ও তুষারঝড়ের কারণে প্রায় চার দিন আগেই ওই দুই তরুণের মৃত্যু হয়। কিন্তু এই পুরো সময়টাজুড়ে হিমশীতল বাতাস, ভারী তুষারপাত ও বরফঝড়ের মধ্যেও কুকুরটি মালিকের মরদেহ ছেড়ে একচুলও নড়েনি।

উদ্ধারকারীদের ভাষ্য, কুকুরটি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছিল। দেখে বোঝা যাচ্ছিল, সে খাবার বা আশ্রয়ের খোঁজেও যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, বন্য প্রাণী বা অন্য কোনো বিপদ থেকে মালিকের মরদেহ রক্ষা করতেই সে পাহারা দিয়ে বসে ছিল।

প্রথমদিকে উদ্ধারকারী দলের প্রতিও কুকুরটি আক্রমণাত্মক আচরণ করে। সম্ভবত অচেনা মানুষদের দেখে সে ভেবেছিল, তারা মালিকের ক্ষতি করতে এসেছে। পরে অনেক চেষ্টা, আদর ও আশ্বস্ত করার পর কুকুরটি পরিস্থিতি বুঝতে পারে এবং সরে দাঁড়ায়। মরদেহ দুটি উদ্ধার করে নেওয়ার সময়ও মালিকের পাশেই ছিল সেই কুকুর।

এদিকে, হিমাচল প্রদেশজুড়ে কয়েক দিন ধরে অব্যাহত ভারী তুষারপাতের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রদেশজুড়ে প্রায় এক হাজার ২৫০টি সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে। তীব্র শীত ও তুষারঝড়ে উদ্ধারকাজেও সৃষ্টি হচ্ছে নানা প্রতিবন্ধকতা।

মানুষ ও প্রাণীর সম্পর্কের গভীরতা আর নিঃশর্ত ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে রইল হিমাচলের এই ঘটনা, যেখানে মৃত্যুর পরও মালিককে ছেড়ে যায়নি তার প্রভুভক্ত সঙ্গী।