/
/
ইউরোপ ভ্রমণের সহজ পথ: শেনজেন ভিসার পূর্ণাঙ্গ গাইড
ইউরোপ ভ্রমণের সহজ পথ: শেনজেন ভিসার পূর্ণাঙ্গ গাইড
Byলাল সবুজ প্রকাশ
Published১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
৫:২৮ অপরাহ্ণ
516646823_1181868137288453_5875725774706969096_n
লাল সবুজ প্রকাশ
বাংলাদেশের তারুণ্য নেতৃত্বাধীন উন্নয়ন-ভিত্তিক মিডিয়া প্লাটফর্ম লাল সবুজ প্রকাশ। শিশু-কিশোর-তরুণদের চোখে অধিকার, জলবায়ু, সমতা, ন্যায্যতা ও সত্যের গল্পের খোঁজে গ্রাম থেকে শহর, পাহাড় থেকে চরের কথা তুলে ধরি আমরা। তুলে ধরি তাদের সৃজনশীলতা, ছড়াই সচেতনতার বার্তা।

কনটেন্টটি শেয়ার করো

Copied!

সর্বশেষ

download

বিদেশ ভ্রমণের স্বপ্ন অনেকেই দেখেন। কিন্তু জটিল ভিসা প্রক্রিয়ার কারণে অনেক সময় সেই স্বপ্ন থমকে যায়। তবে ইউরোপ ভ্রমণের জন্য রয়েছে একটি চমৎকার সমাধান—শেনজেন ভিসা। এই একটি ভিসা নিয়েই আপনি ভ্রমণ করতে পারবেন ইউরোপের ২৭টি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশে; প্রতিটি দেশের জন্য আলাদা ভিসা নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

‘শেনজেন ভিসা’ অন্যান্য সাধারণ ভিসার তুলনায় ভিন্ন, কারণ এটি একটি ভিসা দিয়েই ইউরোপের ২৭টি দেশে ভ্রমণের সুযোগ দেয়। এসব দেশ আলাদাভাবে স্বাধীন হলেও ভিসা নীতিতে তারা একতাবদ্ধ। তাই শেনজেনভুক্ত যেকোনো একটি দেশের ভিসা পেলে বাকি ২৬টি দেশেও অনায়াসে যাতায়াত করা যায়।

শেনজেন ভিসার পরিচিতি

১৯৮৫ সালে লুক্সেমবার্গের শেনজেন শহরে ইউরোপীয় কয়েকটি দেশের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার লক্ষ্য ছিল অভ্যন্তরীণ সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ সহজ করে একটি একীভূত ভ্রমণ অঞ্চল গড়ে তোলা। সেই চুক্তির ধারাবাহিকতায় সৃষ্টি হয় শেনজেন এলাকা ও শেনজেন ভিসা। বর্তমানে ইউরোপের অধিকাংশ দেশ এই অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

এই ভিসা নিয়ে ১৮০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত পর্যটন বা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ইউরোপে অবস্থান করা যায়।

শেনজেন অঞ্চলের জনসংখ্যা প্রায় ৪৪–৪৫ কোটি। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষ অভ্যন্তরীণ সীমান্ত অতিক্রম করে কাজ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে অংশ নেন। সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ সহজ হলেও শেনজেন এলাকার বাইরের দেশগুলোর সঙ্গে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ তুলনামূলক কঠোর।

আরও পড়ুন: জেনে নিন বিশ্বসেরা ১০ ফুল-ফ্রি স্কলারশিপ সম্পর্কে

শেনজেনভুক্ত দেশগুলো

অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়া, চেকিয়া (Czechia), ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, হাঙ্গেরি, আইসল্যান্ড, ইতালি, লাতভিয়া, লিচেনস্টাইন, লিথুয়ানিয়া, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, স্পেন, সুইডেন এবং সুইজারল্যান্ড।

কীভাবে শেনজেন ভিসা পাবেন

অনলাইনে আবেদন করা যায়। আবেদন করতে এবং বিস্তারিত জানতে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস বা অনুমোদিত ভিসা আবেদন কেন্দ্রের (যেমন VFS Global) ওয়েবসাইটে যোগাযোগ করতে হবে।

বি.দ্র.: আবেদন ফর্ম সতর্কতার সঙ্গে পূরণ করতে হবে। কোনো ঘর ফাঁকা রাখা যাবে না এবং তথ্য ভুল হওয়া যাবে না। অন্যথায় আবেদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। আবেদন ফরমে অবশ্যই তারিখ ও স্বাক্ষর থাকতে হবে।

 

শেনজেন ভিসা ফি

শেনজেন ভিসার স্ট্যান্ডার্ড ফি ৯০ ইউরো (প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য)।
৬ থেকে ১২ বছর বয়সীদের জন্য ফি ৪৫ ইউরো।
৬ বছরের নিচের শিশুদের জন্য কোনো ফি নেই।

আরও পড়ুন: জেনে নিন ইউরোপের সেরা ১০ স্কলারশিপ সম্পর্কে

মনে রাখবেন

ভিসা ফি দূতাবাস বা ভিসা আবেদন কেন্দ্রের নির্ধারিত পদ্ধতিতে (নগদ/কার্ড) পরিশোধ করতে হয়।

ফি জমা দেওয়ার পর তা ফেরতযোগ্য নয়, এমনকি ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলেও।

বাংলাদেশ থেকে শেনজেন ভিসা পাওয়ার উপায়

বাংলাদেশে যেসব শেনজেনভুক্ত দেশের দূতাবাস বা অনুমোদিত ভিসা সেন্টার রয়েছে, সেখান থেকে সংশ্লিষ্ট প্রধান গন্তব্য দেশের জন্য আবেদন করতে হবে। সাধারণত যে দেশে সবচেয়ে বেশি সময় অবস্থান করবেন, সেই দেশের দূতাবাসে আবেদন করতে হয়।

আরও পড়ুন: জেনে নিন মধ্যপ্রাচ্যের ১১ স্কলারশিপ সম্পর্কে

 

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
১. সাধারণ কাগজপত্র

ভ্রমণ শেষে অন্তত ৩ মাস মেয়াদ থাকবে এমন পাসপোর্ট

দুই কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি (সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড)

পাসপোর্টের ব্যক্তিগত তথ্যের পৃষ্ঠার পরিষ্কার ফটোকপি

প্রতিটি কাগজের মূল কপির সঙ্গে একটি করে ফটোকপি

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ইংরেজি বা সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষায় অনুবাদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)

ন্যূনতম ৩০ হাজার ইউরো কভারেজসহ স্বাস্থ্যবিমা

 

২. ভ্রমণ (ট্যুরিস্ট) ভিসার ক্ষেত্রে

ভ্রমণ পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য

গত ৬ মাসের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব বিবরণী

হোটেল বুকিং বা আবাসনের প্রমাণ

ম্যারেজ সার্টিফিকেট, বার্থ সার্টিফিকেট ও সন্তানের তথ্য (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)

আরও পড়ুন: স্টুডেন্ট ভিসা রিফিউজড হচ্ছে যে পাঁচ ভুলে

 

৩. বিজনেস ভিসার ক্ষেত্রে

প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ভ্রমণের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে অফিসিয়াল চিঠি

আমন্ত্রণপত্র (ইংরেজি বা সংশ্লিষ্ট ভাষায়)

ট্রেড লাইসেন্স ও কোম্পানির ব্যাংক হিসাব বিবরণী

সার্টিফিকেট অব ইনকর্পোরেশন বা সংশ্লিষ্ট দলিল

বাংলাদেশ ও বিদেশে লেনদেনের তথ্য (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)

বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে স্টল বরাদ্দপত্র বা এক্সিবিটর পাস

 

৪. কারও সঙ্গে সাক্ষাতের ক্ষেত্রে

আমন্ত্রণকারী ব্যক্তির স্বাক্ষরিত ইনভাইটেশন/গ্যারান্টর ফরম

গত ৬ মাসের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব বিবরণী

সম্পর্কের প্রমাণপত্র

ফ্লাইট রিজার্ভেশন

আবাসনের প্রমাণ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)

 

৫. শিশুদের ক্ষেত্রে

বাবা-মা বা বৈধ অভিভাবকের অনুমতিপত্র

আবেদনকালে অভিভাবকের উপস্থিতি প্রয়োজন হতে পারে

 

৬. এয়ারপোর্ট ট্রানজিট ভিসার ক্ষেত্রে

চূড়ান্ত গন্তব্য দেশের ভিসা (যদি প্রযোজ্য হয়)

ফ্লাইট রিজার্ভেশন

বি.দ্র.: ট্রানজিট ভিসার ক্ষেত্রে সাধারণত স্বাস্থ্যবিমা প্রয়োজন হয় না।

ভিসা ইন্টারভিউ

শেনজেনভুক্ত দেশগুলোর দূতাবাস আবেদনকারীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারের ব্যবস্থা করতে পারে। এই সাক্ষাৎকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রয়োজনীয় তথ্য উপস্থাপন করা উচিত।