/
/
পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণে পিছিয়ে নারীরা
পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণে পিছিয়ে নারীরা
Byলাল সবুজ প্রকাশ
Published৯ মার্চ, ২০২৬
১০:২২ পূর্বাহ্ণ
516646823_1181868137288453_5875725774706969096_n
লাল সবুজ প্রকাশ
বাংলাদেশের তারুণ্য নেতৃত্বাধীন উন্নয়ন-ভিত্তিক মিডিয়া প্লাটফর্ম লাল সবুজ প্রকাশ। শিশু-কিশোর-তরুণদের চোখে অধিকার, জলবায়ু, সমতা, ন্যায্যতা ও সত্যের গল্পের খোঁজে গ্রাম থেকে শহর, পাহাড় থেকে চরের কথা তুলে ধরি আমরা। তুলে ধরি তাদের সৃজনশীলতা, ছড়াই সচেতনতার বার্তা।

কনটেন্টটি শেয়ার করো

Copied!

সর্বশেষ

d2

আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক টাউন হল আলোচনায় মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেছেন, পরিবর্তনের কেন্দ্রে নারীরা থাকলেও ক্ষমতার কাঠামোয় তাদের উপস্থিতি এখনো খুবই সীমিত।

রোববার “হার ভয়েস, হার রাইটস” শীর্ষক এ টাউন হলের আয়োজন করে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন। এ বছরের নারী দিবসের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য ছিল “রাইটস, জাস্টিস, অ্যাকশন: ফর অল উইমেন অ্যান্ড গার্লস”।

শাহীন আনাম বলেন, স্বাধীনতার লড়াইয়ের মূল কথা ছিল সবার জন্য মর্যাদাসম্পন্ন সমঅধিকার। কিন্তু বাস্তবে নারীরা এখনও সহিংসতা ও বৈষম্যের শিকার হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গা থেকে পিছিয়ে পড়ছেন। তিনি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ সবার জন্য সমানভাবে অধিকার নিশ্চিত করা এবং আইনের কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন।

টাউন হলে দলিত জনগোষ্ঠী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, বিভিন্ন জেন্ডার ও বিশ্বাসের মানুষ এবং তরুণ প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা সরাসরি আলোচকদের সঙ্গে কথা বলে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও প্রশ্ন তুলে ধরেন।

আলোচনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ওয়াসিউর রহমান তন্ময় জানান, জুলাই অভ্যুত্থানে নারীদের দৃশ্যমান ভূমিকা থাকলেও সংস্কার ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের প্রতিনিধিত্ব এখনও সীমিত। তিনি বলেন, ২০২৫ সালে নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ২,৮০৮টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৭৮৬টি ধর্ষণ বা সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা। এছাড়া বিবাহিত নারীদের ৭২ শতাংশ স্বামীর হাতে সহিংসতার শিকার হয়েছেন এবং ৬৩ থেকে ৭৮ শতাংশ নারী অনলাইনে সহিংসতার মুখে পড়েছেন।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের রাইটস অ্যান্ড গভর্ন্যান্স প্রোগ্রামসের পরিচালক বনশ্রী মিত্র নিয়োগী বলেন, স্বাধীনতার সংগ্রাম ছিল অধিকার ও মর্যাদার সংগ্রামও। তিনি প্রতিদিনের জীবনে অধিকার কীভাবে খর্ব হয় তা বোঝার সামাজিক সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।

আলোচনায় ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের সামাজিক বৈষম্য, তৃণমূল এলাকায় নারীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার সীমাবদ্ধতা, বাল্যবিবাহ, অনলাইনে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা এবং রাজনীতিতে নারীর কম অংশগ্রহণের বিষয় উঠে আসে।

উই ক্যান বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী জিনাত আরা হক বলেন, আইন থাকলেও পশ্চাৎমুখী সামাজিক মানসিকতা পরিবর্তনের পথে বড় বাধা হয়ে আছে। তিনি বলেন, মেয়েদের এমনভাবে বড় করা যাবে না যাতে তারা মনে করে বিয়েই তাদের একমাত্র ভবিষ্যৎ।

রাঙামাটি থেকে আসা মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট সুস্মিতা চাকমা বলেন, অনেক এলাকায় বাল্যবিবাহ ও সহিংসতা বেড়েছে, অথচ ন্যায়বিচারের সুযোগ সীমিত।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আইনুন নাহার বলেন, শিশুবিবাহ ও সহিংসতার শেকড় পিতৃতান্ত্রিক সামাজিক কাঠামোয় নিহিত। নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়নের জন্য সামাজিক আন্দোলনের প্রয়োজন রয়েছে।

অনুষ্ঠানে সিএসআইডির নির্বাহী পরিচালক খন্দকার জহুরুল আলম প্রতিবন্ধী নারীদের বহুমাত্রিক বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরেন।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন জানায়, আন্তর্জাতিক নারী দিবস কেবল প্রতীকী উদযাপনে সীমাবদ্ধ না রেখে আইন বাস্তবায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা এবং সব সম্প্রদায়ের নারী ও কিশোরীদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।