

সামনে আগমন ঘটছে শীতের, আর শীতে শিশুদের নানা রোগে আক্রমণ করে। এই সময়ে শিশুদের আলাদা করে যত্নের প্রয়োজন হয়, বিশেষ করে ৫ বছরের কম বয়সীদের। তোমরা বেড়ে ওঠার সাথে সাথে নিউমোনিয়া নামটার সাথে অনেকেই পরিচিত হয়ে উঠেছো ছোটবেলা থেকেই। শিশুকালে আক্রান্ত হওয়া অন্যতম ভয়াবহ রোগের নাম নিউমোনিয়া।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে দেখা যায় ২৫ লাখেরও বেশি মানুষ, যার পঞ্চাশ শতাংশের বেশিই পাঁচ বছরের চেয়েও কম বয়সী শিশুরা। সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও এই রোগের কারণে হাজার হাজার শিশু মৃত্যুবরণ করছে।
ডা: সাইফ হোসেন খান তার এক প্রতিবেদনে নিউমোনিয়াকে বলেছেন ফুসফুসের প্রদাহজনিত একটি সংক্রমণ হিসেবে। এই সংক্রমণ মূলত ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাকের মাধ্যমে হয়ে থাকে। এর সংক্রমনের ফলে বায়ুথলিগুলো তরল পুঁজে ভরে যায় যা অক্সিজেন গ্রহণের সমস্যা তৈরি করে। এই রোগ শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এই রোগের প্রতিরোধের ক্ষেত্রে মূলত টিকাদান, সময় মেনে চিকিৎসা ও সচেতনতার কথাই বেশি বলা হয়।
যেভাভাবে ছড়ায় এই রোগ,
১.মূলত বায়ুতে থাকে বিভিন্ন জীবাণু আমাদের নিশ্বাসের সাথে ফুসফুসের ভেতরে প্রবেশ করার পরেই এর সংক্রমণ ছড়ায়।
২. সংক্রমিত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে তা আরো ছড়ায়।
৩. ধুমপায়ী ব্যক্তিরা আক্রান্ত ব্যক্তির কাছে গেলে ঝুঁকি বেশি থাকে।
৪. আক্রান্ত ব্যক্তির বা দূষিত কিছু স্পর্শ করে নাকে মুখে স্পর্শ করলে।
৫. অসতর্কতায় আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে গেলে
প্রতিরোধের উপায় হিসেবে ডা: সাইফ হোসেন খান বেশ কিছু পন্থার কথা উল্লেখ করে তার মধ্যে, টিকা গ্রহণ পন্থা অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করেন। এ সময় নিউমোকোক্কাল ও ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা নিউমোনিয়া প্রতিরোধে কার্যকর। এ বিষয়ে যারা ঝুঁকি আছে তাদের ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া অত্যন্ত জরুরি হিসেবেও তিনি উল্লেখ করেন। হাত নিয়মিত ধুয়ে কোনো কিছু স্পর্শ ও তারপর আবার হাত ধুয়ে শরীরের অঙ্গ স্পর্শ করাও প্রতিরোধ গড়তে পারে।
এছাড়া সুষম খাদ্য গ্রহণে নিউমোনিয়াসহ সব ধরণের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, নিয়মিত মাস্ক ব্যবহার এই রোগের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারে। তাছাড়া স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশে থাকার অভ্যাস করলে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। সর্বোপরি চিকিৎসকের নিয়মানুসারে চললে এই রোগ থেকে প্রতিরোধ ও প্রতিকার পাওয়া সম্ভব। শীতকালে পরিচ্ছন্ন ও জীবাণূুমুক্ত পোশাক শীতকালে এই রোগ প্রতিরোধ করতে পারে।
তাই এখন সময় নিউমোনিয়া নিয়ে নিজে সতর্ক হওয়া এবং আশেপাশের সবাইকে সতর্ক করে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা থেকে মুক্তি পাওয়া।