ডিজিটাল বাংলাদেশে এখন প্রতিবাদ করা অনেক সহজ। হাতে স্মার্টফোন আর ইন্টারনেট থাকলেই আমরা ফেসবুকে পোস্ট দিই, হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করি, প্রোফাইল ছবি বদলাই বা কোনো অনলাইন পিটিশনে সই করি। সমাজবিজ্ঞানীরা এই ধরনের অনলাইন প্রতিবাদকেই বলেন ‘স্ল্যাক্টিভিজম’ অর্থাৎ কম পরিশ্রমে ডিজিটাল সক্রিয়তা।
বাংলাদেশে অনেক ইস্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বড় ভূমিকা রেখেছে। নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, কোটা সংস্কার বা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির মতো বিষয়ে অনলাইনে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। অনেক সময় একটি পোস্ট বা হ্যাশট্যাগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং মূলধারার গণমাধ্যম ও নীতিনির্ধারকদের নজর কাড়ে।
তবে প্রশ্নও আছে। শুধু লাইক, শেয়ার বা স্ট্যাটাস দিলে কি সত্যিই পরিবর্তন আসে? অনেকেই অনলাইনে প্রতিবাদ করে মনে করেন, নিজের দায়িত্ব শেষ। আবার আইনি ঝুঁকির ভয়েও কেউ কেউ শুধু অনলাইনেই সীমাবদ্ধ থাকেন।
তাই স্ল্যাক্টিভিজম পুরোপুরি খারাপ নয়, আবার একে যথেষ্টও বলা যায় না। এটি সচেতনতা তৈরির একটি শুরু হতে পারে। কিন্তু বাস্তব পরিবর্তন আনতে হলে অনলাইন কথার সঙ্গে অফলাইন কাজও দরকার। ডিজিটাল যুগে আসল চ্যালেঞ্জ হলো অনলাইনের প্রতিবাদকে বাস্তব উদ্যোগে রূপ দেওয়া।


