/
/
অনলাইন জুয়ার বিস্তার: ঝুঁকিতে তরুণ সমাজ, 
অনলাইন জুয়ার বিস্তার: ঝুঁকিতে তরুণ সমাজ, 
Byলাল সবুজ প্রকাশ
Published২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
১:৫০ অপরাহ্ণ
516646823_1181868137288453_5875725774706969096_n
লাল সবুজ প্রকাশ
বাংলাদেশের তারুণ্য নেতৃত্বাধীন উন্নয়ন-ভিত্তিক মিডিয়া প্লাটফর্ম লাল সবুজ প্রকাশ। শিশু-কিশোর-তরুণদের চোখে অধিকার, জলবায়ু, সমতা, ন্যায্যতা ও সত্যের গল্পের খোঁজে গ্রাম থেকে শহর, পাহাড় থেকে চরের কথা তুলে ধরি আমরা। তুলে ধরি তাদের সৃজনশীলতা, ছড়াই সচেতনতার বার্তা।

কনটেন্টটি শেয়ার করো

Copied!

সর্বশেষ

download

দেশে দ্রুতগতিতে বাড়ছে অনলাইন জুয়ার বিস্তার। স্মার্টফোন ও সহজ ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন অবৈধ অনলাইন বেটিং ও গেমিং প্ল্যাটফর্ম তরুণদের টার্গেট করছে। সহজে অর্থ উপার্জনের প্রলোভন দেখিয়ে এসব প্ল্যাটফর্ম তরুণ সমাজকে আসক্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সম্প্রতি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, অনলাইন জুয়া শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই করছে না, বরং তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য ও পারিবারিক স্থিতিশীলতার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।

দ্রুত লাভের প্রলোভন, বড় ক্ষতির ঝুঁকি

অনলাইন জুয়ার বিজ্ঞাপনগুলোতে অল্প বিনিয়োগে দ্রুত লাভের আশ্বাস দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে শুরুতে কিছু অর্থ জিতলেও পরবর্তীতে বড় অঙ্কের অর্থ হারিয়ে ফেলছেন খেলোয়াড়রা। ফলে তৈরি হচ্ছে ঋণের চাপ, আর্থিক সংকট এবং চরম হতাশা।বিশেষজ্ঞদের মতে, “জুয়া একটি আচরণগত আসক্তি। একবার এতে জড়িয়ে পড়লে ব্যক্তি বারবার ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন, যা তাকে আরও গভীর সংকটে ফেলে।

মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ভয়াবহ প্রভাব
মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে উদ্বেগ, হতাশা, অনিদ্রা এবং আত্মবিশ্বাস হ্রাসের মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে আত্মহত্যার প্রবণতাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অনলাইন জুয়া মস্তিষ্কে ডোপামিন নির্ভর উত্তেজনা তৈরি করে, যা ধীরে ধীরে আসক্তিতে রূপ নেয়। এটি মাদকাসক্তির মতোই ক্ষতিকর।

ভাঙছে পারিবারিক সম্পর্ক
অনলাইন জুয়ার কারণে অনেক পরিবারে অশান্তি দেখা দিচ্ছে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্ব, আর্থিক টানাপোড়েন এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের সঞ্চিত অর্থ পর্যন্ত হারিয়ে যাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক মর্যাদা ও পারিবারিক বন্ধন নষ্ট করছে।
সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, “একজন সদস্যের জুয়া আসক্তি পুরো পরিবারকে বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে।

আইনি দৃষ্টিকোণ
বাংলাদেশে জুয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। Public Gambling Act, 1867 অনুযায়ী জুয়া পরিচালনা ও অংশগ্রহণ উভয়ই শাস্তিযোগ্য। অপরাধ প্রমাণিত হলে জরিমানা ও কারাদণ্ড হতে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিতভাবে অবৈধ অনলাইন জুয়া সাইটের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে বলে জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা তরুণদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলছে

তরুণদের করণীয়

  • দ্রুত অর্থ লাভের প্রলোভন থেকে দূরে থাকতে হবে
  • সন্দেহজনক অ্যাপ ও ওয়েবসাইট ব্যবহার এড়িয়ে চলতে হবে
  • পরিবারের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করতে হবে
  • খেলাধুলা, পড়াশোনা ও দক্ষতা উন্নয়নে সময় দিতে হবে
  • প্রয়োজনে কাউন্সেলিং নিতে হবে

সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনলাইন জুয়ার ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন তরুণ সংগঠকরা। স্কুল-কলেজ পর্যায়ে সচেতনতামূলক আলোচনা, পোস্টার ক্যাম্পেইন ও অনলাইন কনটেন্ট তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, “তরুণরাই পারে তরুণদের সচেতন করতে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্র সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

উপসংহার
প্রযুক্তির সুবিধা যেমন জীবনে গতি এনেছে, তেমনি এর অপব্যবহার তরুণ সমাজকে বিপথে নিতে পারে। অনলাইন জুয়া তারই একটি উদাহরণ। সচেতনতা, আইনের প্রয়োগ এবং পারিবারিক সহযোগিতার মাধ্যমে এই ঝুঁকি থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।