

জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস স্মরণে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে ‘বাংলা রেকর্ডস’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম।
রোববার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ‘পতাকায় বিপ্লব ও গৌরব’ শিরোনামে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি শাসকদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনে বটতলায় বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উত্তোলন করা হয়। সেদিন তৎকালীন ছাত্রনেতা আ স ম আব্দুর রব প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। শিবনারায়ণ দাশের নকশায় তৈরি ওই পতাকার মাঝখানে ছিল বাংলাদেশের মানচিত্র।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান খান, ডাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুব জামান, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের গ্রন্থাগারিক অধ্যাপক কাজী মোস্তাক গাউসুল হক এবং অনুষ্ঠানের সভাপতি জাফর রাজা চৌধুরী।
পরে বটতলা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা জাতীয় পতাকার ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তুলে ধরেন।
ডাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুব জামান বলেন, “আমরা হয়তো আর বেশি দিন থাকব না। আমরা তোমাদের একটি পতাকা দিয়ে গেছি—যা এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত। আমরা চলে যাব, কিন্তু এই পতাকা তোমাদেরই ধরে রাখতে হবে।” তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
অধ্যাপক কাজী মোস্তাক গাউসুল হক বলেন, “জাতীয় পতাকা হঠাৎ করে আসেনি; এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস, অগণিত মানুষের শ্রম, ঘাম ও আত্মত্যাগ। এই পতাকার সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের ঐতিহ্য, চেতনা, বিশ্বাস ও আত্মপরিচয়।” তিনি মুক্তিযুদ্ধের গৌরবকে ম্লান করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং বলেন, “মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষের আত্মত্যাগ জড়িয়ে আছে। এটি ভুলে গেলে রাষ্ট্রের ভিত্তিই অর্থহীন হয়ে যাবে।”
কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান খান তাঁর বক্তব্যে সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে শোষণমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান।