/
/
ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে ১০টি ভূমিকম্প: ইউএসজিএস
ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে ১০টি ভূমিকম্প: ইউএসজিএস
Byলাল সবুজ প্রকাশ
Published৫ মার্চ, ২০২৬
৯:১৩ পূর্বাহ্ণ
516646823_1181868137288453_5875725774706969096_n
লাল সবুজ প্রকাশ
বাংলাদেশের তারুণ্য নেতৃত্বাধীন উন্নয়ন-ভিত্তিক মিডিয়া প্লাটফর্ম লাল সবুজ প্রকাশ। শিশু-কিশোর-তরুণদের চোখে অধিকার, জলবায়ু, সমতা, ন্যায্যতা ও সত্যের গল্পের খোঁজে গ্রাম থেকে শহর, পাহাড় থেকে চরের কথা তুলে ধরি আমরা। তুলে ধরি তাদের সৃজনশীলতা, ছড়াই সচেতনতার বার্তা।

কনটেন্টটি শেয়ার করো

Copied!

সর্বশেষ

WhatsApp Image 2026-03-04 at 5.17.06 PM (1)

ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশে ঘন ঘন ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় ভূতত্ত্ববিদরা বড় ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস (USGS) এবং ইউরোপীয়-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (EMSC) জানিয়েছে, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ১০টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে।

বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা বন্যা সমভূমিতে অবস্থিত এবং জনসংখ্যা ১৭ কোটির বেশি হওয়ায় সামান্য দুর্যোগও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

সাম্প্রতিক ভূমিকম্প

সবচেয়ে সাম্প্রতিক ভূমিকম্পটি ২৭ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৩ এবং উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি। প্রায় ২৪ সেকেন্ড স্থায়ী এই কম্পন ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনুভূত হয়।

এর আগের দিন ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টা ৪ মিনিটে আরেকটি ৪ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের সিকিম অঞ্চল, যা ঢাকার প্রায় ৪৫৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে।

২৫ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টা ৫৪ মিনিটে মিয়ানমার থেকে উৎপন্ন একটি ভূমিকম্প দেশের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে ঢাকায় অনুভূত হয়।

এছাড়া ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় একটি হালকা ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যার উৎপত্তিস্থল ছিল সিলেট শহরের পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে।

৩ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমার থেকে উৎপন্ন ৫ দশমিক ৯ ও ৫ দশমিক ২ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুভূত হয়। একই দিন ভোর ৪টা ৩৬ মিনিটে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলাকে কেন্দ্র করে ৪ দশমিক ১ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়।

এছাড়া ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি সিলেটের গোয়াইনঘাট এলাকায় যথাক্রমে ৩ দশমিক ৩ ও ৪ দশমিক ০ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে।

পরে ১৯ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টা ৪৬ মিনিটে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলাকে কেন্দ্র করে ৪ দশমিক ১ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়।

বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কা

ইতিহাস বলছে, এই অঞ্চলে ৭ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প সাধারণত ১০০ থেকে ১৫০ বছর পরপর ঘটে। সর্বশেষ বড় ভূমিকম্পটি ১৯১৮ সালে শ্রীমঙ্গলে আঘাত হানে, যার মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৬।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন শনাক্ত করা, বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা এবং শহরগুলোকে ভূমিকম্প মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত না করলে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে।

বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ শহর ঢাকা এ ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। ভূমিকম্প ঝুঁকি সূচক অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ২০টি শহরের মধ্যে ঢাকাও রয়েছে।

২০০৯ সালে ইন্টিগ্রেটেড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম (IDMP) ও জাইকা (JICA) পরিচালিত এক যৌথ জরিপে বলা হয়, ঢাকায় ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানলে প্রায় ৭২ হাজার ভবন ধসে পড়তে পারে এবং আরও ১ লাখ ৩৫ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।