

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এবার সাধারণ নাগরিকদের জন্য নতুন টাকার নোট ছাড়বে না বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে অধিকাংশ মানুষকে এবার নতুন নোট ছাড়াই ঈদ করতে হবে। শিশু–কিশোরদের হাতেও উঠবে না নতুন টাকা।
তবে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেদের কর্মকর্তা–কর্মচারীদের জন্য নতুন নোটের ব্যবস্থা করেছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি একটি অভ্যন্তরীণ অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। গতকাল রোববার থেকে কর্মকর্তা–কর্মচারীরা নতুন নোট নিতে শুরু করেছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
প্রতিবছর ঈদের সময় নতুন নোটের ব্যাপক চাহিদা থাকে। ঈদ সালামি হিসেবে নতুন নোট দেওয়ার প্রচলন বেশ জনপ্রিয়। রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে, গুলিস্তানসহ বিভিন্ন এলাকায় ঈদকে ঘিরে নতুন নোট ও ছেঁড়া টাকার অস্থায়ী দোকান বসে। মূলত ফুটপাতেই এই ব্যবসা বেশি দেখা যায় এবং ঈদের সময় এটি বেশ জমজমাট থাকে।
কিছুদিন আগে বাংলাদেশ ব্যাংক ঈদের সময় বাজারে নতুন নোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। অথচ এখন নিজেদের কর্মকর্তা–কর্মচারীদের জন্য নতুন নোটের ব্যবস্থা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের জানান, ঈদের আগে নতুন টাকার নোট বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক সরে এসেছে। তাই এবার সাধারণ মানুষের জন্য ঈদের আগে নতুন টাকা ছাড়া হবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, কিছু কর্মকর্তা ব্যাংক খাতের সংস্কারের কথা বললেও নিজেদের ক্ষেত্রে সেই সংস্কার চান না। নগদ টাকার ব্যবহার কমানোর কথা বলা হলেও নিজেদের জন্য নগদ টাকার ব্যবস্থা ঠিকই রাখা হয়েছে।
কে কত নতুন নোট নিতে পারবেন
৩ মার্চ জারি করা এক অফিস আদেশে বলা হয়েছে—
নির্বাহী পরিচালক, পরিচালক, অতিরিক্ত পরিচালক ও যুগ্ম পরিচালক পদমর্যাদার কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮৩ হাজার টাকার নতুন নোট নিতে পারবেন।
পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ অন্যান্য কর্মচারীরা সর্বোচ্চ ৬৮ হাজার টাকার নতুন নোট নিতে পারবেন।
৮ থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত চাহিদা অনুযায়ী নতুন নোট সংগ্রহ করতে পারবেন কর্মকর্তা–কর্মচারীরা।
এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, অনেক কর্মকর্তা–কর্মচারী তাদের বেতন–ভাতার চেয়েও বেশি পরিমাণ নতুন নোট নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। অনেকের মতে, এসব নতুন নোট অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে ফুটপাতের নতুন নোট ও ছেঁড়া টাকার ব্যবসায়ীদের কাছেও পৌঁছাতে পারে।