/
/
ইপিএসএমপি ২০২৫ বাতিলের দাবিতে শাহবাগে নাগরিক সমাজের প্রতিবাদ
ইপিএসএমপি ২০২৫ বাতিলের দাবিতে শাহবাগে নাগরিক সমাজের প্রতিবাদ
Byলাল সবুজ প্রকাশ
Published১৭ জানুয়ারি, ২০২৬
৫:৩৫ অপরাহ্ণ
516646823_1181868137288453_5875725774706969096_n
লাল সবুজ প্রকাশ
বাংলাদেশের তারুণ্য নেতৃত্বাধীন উন্নয়ন-ভিত্তিক মিডিয়া প্লাটফর্ম লাল সবুজ প্রকাশ। শিশু-কিশোর-তরুণদের চোখে অধিকার, জলবায়ু, সমতা, ন্যায্যতা ও সত্যের গল্পের খোঁজে গ্রাম থেকে শহর, পাহাড় থেকে চরের কথা তুলে ধরি আমরা। তুলে ধরি তাদের সৃজনশীলতা, ছড়াই সচেতনতার বার্তা।

কনটেন্টটি শেয়ার করো

Copied!

সর্বশেষ

lsp photo (9)

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২৫ বছর মেয়াদি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা ২০২৫ (ইপিএসএমপি ২০২৫) অনুমোদনের পথে পা বাড়াতেই নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠন প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করে।
আজ(১৭ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে এ প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এই প্রতিবাদে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিগণ সরকারের খসড়া মহাপরিকল্পনার বিরুদ্ধে তাদের তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ইপিএসএমপি ২০২৫ বাতিলের দাবি জানায়।
এ কর্মসূচিতে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রণীত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করেই তৈরি করা হয়েছে। তারা বলেন, মহাপরিকল্পনাটিতে পরিবেশ ও সমাজের প্রভাব যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি এবং এর ফলে জনগণের অংশগ্রহণকে উপেক্ষা করা হয়েছে।
এ প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ প্রতিবেশ ও উন্নয়ন কর্মজোট (বিডব্লিউজিইডি) এবং উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট(ক্লিন), আমরাই আগামী, ইথিক্যাল ট্রেডিং ইনিশিয়েটিভ বাংলাদেশ (ইটিআই বাংলাদেশ), রি-গ্লোবাল, সৌহার্দ ইয়ুথ ফাউন্ডেশন, সেইফটি অ্যান্ড রাইটস (এসআরএস), ওয়াটারকিপার্স ও শ্রমিক-নেতৃত্বাধীন ক্লাইমেট অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (ওয়ার্কার ক্যান)।
বিডব্লিউজিইডি এর সদস্য সচিব হাসান মেহেদী বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের খসড়া মহাপরিকল্পনাটি প্রণয়নে জনসাধারণ, নাগরিক সমাজ ও স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। এটি পূর্ববর্তী স্বৈরাচারী সরকারের অস্বচ্ছ ও দায়মুক্তিমূলক নীতি প্রণয়নের পুনরাবৃত্তি।” তিনি আরও বলেন, সরকার একটি দীর্ঘমেয়াদি এবং বহুমাত্রিক প্রভাবসম্পন্ন জ্বালানি পরিকল্পনা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা কোনো ধরনের অর্থবহ অংশগ্রহণমূলক পরামর্শ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রতিবাদকারীরা এই মহাপরিকল্পনাতে “এনার্জি ট্রানজিশন” এর ব্যাপক প্রচারের কথা বললেও বাস্তবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ খুবই কম, যেখানে কাগজে দেখা গেছে ৪৪%, কিন্তু বাস্তবে মাত্র ১৭%। তারা আরও জানান, এই মহাপরিকল্পনায় জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা আগামী ২৫ বছরেও ৫০% থাকবে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করবে। এমনকি হাইড্রোজেন, অ্যামোনিয়া কো-ফায়ারিং এবং কার্বন ক্যাপচার (সিসিএস)এর মতো ব্যয়বহুল ও পরীক্ষামূলক প্রযুক্তি সমাধান হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা বাস্তবসম্মত নয় এবং ভবিষ্যতে দেশের জন্য নতুন ঋণ, ভর্তুকি এবং পরিবেশগত সংকটের সৃষ্টি করবে।
এছাড়া, প্রতিবাদকারীরা জোর দিয়ে বলেন, যে মহাপরিকল্পনায় শ্রমিক পুনর্বাসন, নারী ও লিঙ্গভিত্তিক ন্যায্যতা, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং পোশাক খাতের সবুজায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো প্রায় উপেক্ষিত রয়েছে তা জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী।
প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা দাবি করেন, অবিলম্বে ইপিএসএমপি ২০২৫ বাতিল করে, জনগণ ও বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরামর্শ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। তারা আরও বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে, বাস্তবসম্মত ১০০% নবায়নযোগ্য জ্বালানির রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে হবে।
এ কর্মসূচিতে প্রতিবাদকারীরা সতর্ক করে বলেন, যদি এই পরিকল্পনা অনুমোদিত হয়, তবে তা বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি জনবিরোধী, অস্বচ্ছ এবং দায়মুক্তিমূলক নথি হিসেবে পরিণত হবে যা দেশের জনগণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।