

বর্তমান বিশ্বে শাসনব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হিসেবে উঠে এসেছে ‘টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী’। সাধারণত রাজনীতিবিদদের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়াকেই টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী বলা হয়। উন্নয়ন, অর্থনীতি, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য কিংবা অবকাঠামো খাতে দক্ষতা বাড়াতে অনেক দেশ এই পদ্ধতি অনুসরণ করছে।
বাংলাদেশেও বিভিন্ন সময়ে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্য নন এমন ব্যক্তিকেও মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। অতীতে অর্থনীতি, পরিকল্পনা ও প্রযুক্তি খাতে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীরা সাধারণত দলীয় রাজনীতির প্রভাবমুক্ত থেকে পেশাদার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এতে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে গতি আসে। উদাহরণ হিসেবে ইতালিতে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায় অর্থনীতিবিদ Mario Monti-কে প্রধানমন্ত্রী করা হয়েছিল, যিনি একটি টেকনোক্র্যাট সরকার গঠন করেন। তেমনি গ্রিসেও সংকটকালে Lucas Papademos-এর নেতৃত্বে টেকনোক্র্যাট সরকার দায়িত্ব নেয়।
তবে সমালোচকদের দাবি, টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীরা সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত না হওয়ায় তাদের গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা তুলনামূলক কম হতে পারে। এছাড়া রাজনৈতিক বাস্তবতা ও জনমত বিবেচনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে কখনও কখনও সীমাবদ্ধতাও দেখা দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টেকনোক্র্যাট ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমন্বয়ই হতে পারে কার্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ শাসনের মূল চাবিকাঠি। দক্ষতা ও গণতান্ত্রিক বৈধতার সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব বলে তারা মনে করেন।