

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তার যত বাড়ছে, ততই অনলাইনে মেয়েদের প্রতি সহিংসতা ও হয়রানির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি, অনুমতি ছাড়া ছবি ব্যবহার, হুমকি দেওয়া, অশ্লীল বার্তা পাঠানোসহ বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হচ্ছেন নারীরা। এসব ঘটনা তাদের ব্যক্তিজীবনে প্রভাব ফেলছে।
নীলফামারীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এই প্রতিবেদক। তাদের অনেকই সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইনে হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে জানান।
জেলার ডোমার বালিকা উচ্চ নিকেতনের দশম শ্রেণির ছাত্রী সুমনা ইসলাম (ছদ্মনাম) বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি গ্রুপে অপরিচিত একজন আমার আইডি মেনশন দিয়ে বিভিন্ন আজেবাজে কথা বলে। পাশাপাশি আমার মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠায়। শেষ পর্যন্ত আমি বাধ্য হয়ে আমার আইডি ডিলিট করে দিই।”
সোনারায় উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী আসউল হোসনা (ছদ্মনাম) বলে, “আমার টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি নম্বর থেকে মেসেজ আসে। প্রথমে উত্তর দিইনি। পরে অশ্লীল ভিডিও পাঠায়। এরপর আমাকে একটি অশ্লীল ভিডিওর গ্রুপে যুক্ত করে। ভয়ে শেষ পর্যন্ত অ্যাকাউন্টটি ডিলিট করে দিয়েছি।”
অভিভাবক রাবেয়া আক্তার বলেন, “এখন আমাদের খুব চিন্তায় থাকতে হয় কখন কী ঘটে! মেয়েদের এখন ফোন ব্যবহার করতে দিতেই হয়। পড়াশোনা, ক্লাস গ্রুপ সবই এখন অনলাইনে। তাই ফোন চালাতে দিতেই হয়।”
অনলাইনে নিরাপত্তা বিষয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এর আইনজীবী ব্যারিস্টার প্রিয়া আহসান চৌধুরী বলেন, “ব্যক্তিগত ছবি, নম্বর বা তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কোনোভাবে হয়রানির শিকার হলে ভয় না পেয়ে প্রমাণ সংরক্ষণ করে বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তি কিংবা জরুরি সরকারি হেল্পলাইনের মাধ্যমে আইনগত সহায়তা নিতে হবে।”
প্রতিনিয়ত অনলাইন সহিংসতা সংক্রান্ত কল বাড়ছে বলে জানান ১০৯ হেল্পলাইনের ব্যবস্থাপক চৌধুরী মো. মোহায়মেন। তিনি বলেন, “অনলাইনের অবাধ বিস্তার হলেও এ সম্পর্কে জ্ঞান খুবই সীমিত। এ কারণে শিশু-কিশোররা বেশি হয়রানির শিকার হচ্ছে। এতে তাদের মানসিক ও সামাজিক নিরাপত্তায় ঝুঁকি ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। তাই নিরাপদ অনলাইন ব্যবহারের জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন।
/:মাহমুদ হাচান, নীলফামারী