

একসময় জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট কিংবা ভূমি সংক্রান্ত সেবা পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। কখনো দালাল চক্রের ভোগান্তি, কখনো কাগজপত্রের জটিলতা সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি সেবা পাওয়া ছিল সময়সাপেক্ষ ও কষ্টকর। তবে ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তারে সেই চিত্র দ্রুত বদলাচ্ছে। এখন অনেক সরকারি সেবাই মিলছে অনলাইনে, ঘরে বসেই।
ডিজিটাল বাংলাদেশ উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর তাদের সেবাগুলো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসেছে। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন, পাসপোর্ট আবেদন, ভূমি কর পরিশোধ, ই-পর্চা সংগ্রহ, ইউটিলিটি বিল প্রদান এসব সেবা এখন নাগরিকের হাতের মুঠোয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি সেবা ডিজিটালাইজেশন শুধু সময় ও খরচ কমায় না, বরং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও নিশ্চিত করে। অনলাইনে আবেদন ও ট্র্যাকিং সুবিধা থাকায় নাগরিকরা সহজেই জানতে পারেন তাদের আবেদন কোন পর্যায়ে আছে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমছে এবং দুর্নীতির সুযোগও সংকুচিত হচ্ছে।
গ্রামের একজন উদ্যোক্তা কিংবা শহরের একজন চাকরিজীবী সবাই সমানভাবে উপকৃত হচ্ছেন এই ডিজিটাল ব্যবস্থায়। বিশেষ করে নারী, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী নাগরিকদের জন্য অনলাইন সেবা বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে। শারীরিকভাবে অফিসে যাওয়ার ঝামেলা ছাড়াই তারা প্রয়োজনীয় সেবা নিতে পারছেন।
তবে চ্যালেঞ্জও রয়েছে। অনেক এলাকায় এখনো ইন্টারনেট সংযোগ দুর্বল, আবার ডিজিটাল সাক্ষরতার অভাবও একটি বড় বাধা। তাই প্রযুক্তি অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি নাগরিকদের ডিজিটাল দক্ষতা বাড়ানোও জরুরি।
সব মিলিয়ে, সরকারি সেবা অনলাইনে নিয়ে আসা গণতন্ত্রকে আরও অংশগ্রহণমূলক ও নাগরিকবান্ধব করে তুলছে। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও নাগরিকের দূরত্ব কমছে গণতন্ত্র হয়ে উঠছে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক।