

পটুয়াখালীতে শুরু হলো ‘প্রজেক্ট ট্রেস ডিজিটাল সিভিক অ্যাম্বাসাডরস বুটক্যাম্প’-এর প্রথম ব্যাচের কার্যক্রম। প্রান্তিক জাতিগোষ্ঠী ও জেন্ডার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি সহ উদ্বোধনী দিনে অংশ নেন ৫০ জন তরুণ-তরুণী।
বুটক্যাম্পে অংশ নেওয়া তরুণরা তাদের নিজ নিজ এলাকার বিভিন্ন নাগরিক সমস্যার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এর মধ্যে ছিল ভাঙা সেতু, দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা এবং স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ। আয়োজকরা জানান, শুধুমাত্র সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ নয়, বরং আইনগত ও প্রযুক্তিগত উপায়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা তৈরিই ছিল এই কর্মশালার মূল লক্ষ্য।
ডিজিটাল ডেমোক্রেসি ইনিশিয়েটিভের আওতায় ডিডিআই সাউথ এশিয়া, সিভিকাস এবং অ্যাকাউন্টেবিলিটি ল্যাবের সহায়তায় ফর দ্যা লাইট এর আয়োজনে বুটক্যাম্পে অংশগ্রহণকারীদের ‘তথ্য অধিকার আইন (আরটিআই)’ সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণে শেখানো হয়, সরকারি দপ্তরের কাছে প্রকল্পের বাজেট ও নথিপত্র চাওয়া কোনো অনুগ্রহ নয়, বরং এটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার।
এর পাশাপাশি মোবাইল জার্নালিজম (মোজো) বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারীরা শিখেছেন কীভাবে স্মার্টফোন ব্যবহার করে সময়-তারিখ ও জিপিএস-সংবলিত প্রমাণ সংগ্রহ করতে হয়, যাতে অবকাঠামোগত সমস্যার নির্ভরযোগ্য তথ্য তুলে ধরা যায়।
ডিজিটাল নিরাপত্তার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রতিক্রিয়া এড়াতে কীভাবে ডিভাইস সুরক্ষিত রাখতে হবে, এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ ব্যবহার করতে হবে এবং ব্যক্তিগত তথ্য রক্ষা করতে হবে এসব বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
বুটক্যাম্পের শেষ পর্বে অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় ‘ফর দ্য লাইট কমিউনিটি ওয়াচ’ পোর্টালের সঙ্গে। সেখানে কীভাবে লগইন করতে হবে, জিপিএস পিন যুক্ত করতে হবে, ভিডিও প্রমাণ আপলোড করতে হবে এবং আনুষ্ঠানিক নাগরিক আবেদন প্রকাশ করতে হবে তার বিস্তারিত প্রদর্শনী করা হয়।
এ প্রসঙ্গে ‘ফর দ্য লাইট’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রজেক্ট ট্রেইসের প্রকল্প পরিচালক আলামিন বলেন, “দুর্গম ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর টিকে থাকার লড়াইয়ে তাদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। আজ আমাদের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমরা জলবায়ু সহনশীলতার সাথে ডিজিটাল প্রযুক্তির এক অভূতপূর্ব সমন্বয় ঘটাতে সক্ষম হয়েছি। ডিজিটাল ডেমোক্রেসি ইনিশিয়েটিভ, সিভিকাস এবং অ্যাকাউন্টেবিলিটি ল্যাবের সহায়তায় আমরা প্রমাণ করছি যে, প্রান্তিক তরুণ ও নারীদের হাতে সঠিক প্রযুক্তি তুলে দেওয়া হলে-তা সে একটি সোলার ডিভাইস হোক বা কোনো এনক্রিপ্টেড রিপোর্টিং পোর্টাল-তারাই একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ভবিষ্যৎ গড়ার নেতৃত্ব দেবে।”
পটুয়াখালীতে নাগরিক অংশগ্রহণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হবে বলে জানানো হয়েছে।