

শহরের ব্যস্ত রাস্তায় জমে থাকা পানি, অচল স্ট্রিটলাইট কিংবা অপসারণ না হওয়া বর্জ্য এগুলো অনেক সময়ই নাগরিকের দৈনন্দিন ভোগান্তির অংশ হয়ে দাঁড়ায়। অভিযোগ করা হয়, কিন্তু কতটা সমাধান হয়? সেই প্রশ্নের জবাব খুঁজতেই যাত্রা শুরু করেছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী ডিজিটাল উদ্যোগ ‘নাগরিক সেবা’।
এটি কেবল একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম নয় বরং নাগরিক ও স্থানীয় সরকারের মধ্যে আস্থা, সংলাপ ও জবাবদিহিতার একটি সেতুবন্ধন।
অ্যাকাউন্টেবিলিটি ল্যাবের উপ-অনুদান এবং সিভিকাসের অর্থায়নে পরিচালিত ডিজিটাল ডেমোক্রেসি ইনিশিয়েটিভ (DDI)-এর সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে এই উদ্যোগ। এর সূচনা হয়েছিল “এম্পাওয়ারিং আরবান ভলান্টিয়ার্স ফর লোকাল গভর্ন্যান্স ট্রান্সপারেন্সি” শীর্ষক একটি পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে, যা বাস্তবায়ন করে কমিউনিটি পার্টিসিপেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিডি)।
প্রথম ধাপে ৪০ জন কমিউনিটি স্বেচ্ছাসেবক-যাদের অধিকাংশ নারী ও তরুণ-ডিজিটাল সরঞ্জাম ব্যবহার করে নাগরিক সেবা পর্যবেক্ষণের প্রশিক্ষণ পান। এ প্রশিক্ষণ শুধু প্রযুক্তি শেখানো নয়, বরং দায়িত্বশীল নাগরিক হয়ে ওঠার এক অনুশীলন।
‘নাগরিক সেবা’ প্ল্যাটফর্ম নাগরিকদের মতামত ও অভিযোগকে সংগঠিত করে প্রমাণভিত্তিক তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করে। একটি ব্যবহারবান্ধব মোবাইল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবকরা প্রগ্রেসিভ ওয়েব অ্যাপ (PWA) ও এসএমএস গেটওয়ে ব্যবহার করে সমস্যার জিও-ট্যাগড প্রতিবেদন জমা দিতে পারেন। এই তথ্যগুলো একটি উন্মুক্ত ড্যাশবোর্ডে দৃশ্যমান হয়, যেখানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সহজেই সেবার ঘাটতি শনাক্ত করতে পারে। ফলে অভিযোগ শুধু কাগজে সীমাবদ্ধ থাকে না-তা পরিণত হয় কার্যকর পদক্ষেপের ভিত্তিতে।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (এনসিসি)-এর সঙ্গে অংশীদারিত্বে কাজ করছে প্ল্যাটফর্মটি। জিও-ট্যাগড ও বিশ্লেষণযোগ্য তথ্য কর্মকর্তাদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করছে। পাশাপাশি নাগরিক ও সিটি কর্পোরেশন প্রতিনিধিদের মধ্যে সংলাপ সেশন আয়োজনের মাধ্যমে সমাধানমুখী আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।
‘নাগরিক সেবা’ দেখিয়েছে, প্রযুক্তি শুধু তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যম নয়-এটি অংশগ্রহণের একটি নতুন ভাষা। এখানে নাগরিক শুধু অভিযোগকারী নয়; তিনি পরিবর্তনের অংশীদার। আয়োজকদের ভাষায়, “নাগরিক সেবা শুধু একটি ওয়েবসাইট নয়; এটি একটি আন্দোলন-একটি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, দায়িত্বশীল ও স্বচ্ছ বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলন।”
ডিজিটাল যুগে যেখানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা সুশাসনের মূল চাবিকাঠি, সেখানে ‘নাগরিক সেবা’ হয়ে উঠতে পারে নাগরিক ক্ষমতায়নের একটি কার্যকর মডেল। কারণ শেষ পর্যন্ত-নাগরিকই মূল শক্তি, আর জবাবদিহিতাই মূল লক্ষ্য।