

প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে হেডফোন যেন তরুণদের নিত্যসঙ্গী। গান শোনা, অনলাইন ক্লাস, গেম খেলা কিংবা ভিডিও দেখা-সবকিছুতেই এখন হেডফোনের ব্যবহার বাড়ছে। ব্যক্তিগত বিনোদনের এই সহজ মাধ্যমটি সুবিধাজনক হলেও কম বয়সে অতিরিক্ত ও অসচেতন ব্যবহার নানা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
শ্রবণশক্তির স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে
বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ ভলিউমে দীর্ঘ সময় হেডফোন ব্যবহার করলে কানের ভেতরের সংবেদনশীল কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রতিদিন এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ৮০ শতাংশ বা তার বেশি ভলিউমে গান শোনা শ্রবণশক্তির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। সমস্যা ধীরে ধীরে বাড়ে, তাই অনেক সময় তরুণরা বুঝতে পারে না যে তাদের শুনতে সমস্যা হচ্ছে।
কানের ভেতরে থাকা কক্লিয়ার সূক্ষ্ম চুলকোষ একবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা আর আগের অবস্থায় ফেরে না। ফলে স্থায়ী শ্রবণহানি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই ভলিউম কম রাখা এবং মাঝেমধ্যে বিরতি নেওয়া জরুরি।
মনোযোগ ও মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব
দীর্ঘ সময় হেডফোন ব্যবহার করলে তরুণরা আশপাশের পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যেতে পারে। অনেক সময় ক্লাসে বা সাধারণ কথোপকথনে ঠিকভাবে শুনতে না পারার সমস্যাও দেখা দেয়।
উচ্চ শব্দ মস্তিষ্কে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, যা উদ্বেগ, বিরক্তি এবং ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। নিয়মিত এমন পরিস্থিতি মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
শারীরিক ঝুঁকিও আছে
একটানা হেডফোন ব্যবহার করলে মাথাব্যথা, কানে ব্যথা বা অস্বস্তি হতে পারে। কানের ভেতরে ঘাম জমে সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে। এছাড়া রাস্তায় হাঁটার সময় বা যানবাহনে চলাচলের সময় হেডফোন ব্যবহার করলে বাইরের শব্দ শোনা যায় না, যা দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
সচেতন থাকাই সমাধান
তরুণদের জন্য নিরাপদ অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। বিশেষজ্ঞরা ৬০/৬০ নিয়ম অনুসরণ করার পরামর্শ দেন-ভলিউম ৬০ শতাংশের বেশি নয় এবং একটানা ৬০ মিনিটের বেশি নয়। পাশাপাশি নিয়মিত বিরতি নেওয়া এবং নয়েজ-ক্যানসেলিং হেডফোন ব্যবহার করলে ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
প্রযুক্তি ব্যবহার হোক সচেতনতার সঙ্গে-এটাই তরুণদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।