

ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তারের ফলে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের ধরন দ্রুত বদলেছে। আগে নাগরিকদের দাবি তুলে ধরার প্রধান মাধ্যম ছিল মিছিল, সভা বা স্মারকলিপি। এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন পিটিশন ও ভিডিও বার্তার মাধ্যমে সরাসরি জনমত তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। একটি পোস্ট বা ভিডিও অনেক সময় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।
এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে ডিজিটাল লিটারেসি অর্থাৎ প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা ও তথ্য বোঝার সক্ষমতা। তবে শুধু ইন্টারনেট ব্যবহার জানাই যথেষ্ট নয়; তথ্য যাচাই, নিরাপদ অনলাইন আচরণ এবং নিজের বক্তব্য গুছিয়ে উপস্থাপন করার দক্ষতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দক্ষতা নেতৃত্বে রূপ নিলে তা সামাজিক পরিবর্তনের শক্তিতে পরিণত হয়।
নারীদের জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম আত্মপ্রকাশ ও সংগঠনের নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। গ্রামীণ বা প্রান্তিক এলাকার নারীরাও এখন স্থানীয় সমস্যা তুলে ধরতে পারছেন, অনলাইন ক্যাম্পেইন চালাতে পারছেন এবং বিভিন্ন নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। এতে তাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক দৃশ্যমানতা বাড়ছে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও প্রযুক্তি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। স্ক্রিন রিডার, ভয়েস কমান্ড, সাবটাইটেল ও অন্যান্য অ্যাক্সেসিবল সফটওয়্যার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করেছে। ফলে শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও মত প্রকাশ ও অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ছে।
তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। উচ্চগতির ইন্টারনেটের খরচ, মানসম্মত ডিভাইসের অভাব, ডিজিটাল নিরাপত্তাহীনতা ও সাইবার হয়রানি বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে নারী ও প্রতিবন্ধী ব্যবহারকারীরা অনলাইন সহিংসতার ঝুঁকিতে বেশি থাকেন। এ কারণে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
নীতিনির্ধারক ও প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টদের মতে, অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল নীতি, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং সচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রম এই নেতৃত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ডিজিটাল লিটারেসি যখন নেতৃত্বে রূপ নেয়, তখন তা শুধু ব্যক্তিগত ক্ষমতায়ন নয় গণতন্ত্রকে আরও অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিনিধিত্বশীল করে তোলে।
নারী ও প্রতিবন্ধী মানুষের সক্রিয় ডিজিটাল অংশগ্রহণই পারে একটি সমতাভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নতুন পথ