/
/
অনলাইন পিটিশন থেকে পোস্টাল ভোট : বাংলাদেশের ডিজিটাল গণতন্ত্রের পথ
অনলাইন পিটিশন থেকে পোস্টাল ভোট : বাংলাদেশের ডিজিটাল গণতন্ত্রের পথ
Byলাল সবুজ প্রকাশ
Published২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
৩:৪০ অপরাহ্ণ
516646823_1181868137288453_5875725774706969096_n
লাল সবুজ প্রকাশ
বাংলাদেশের তারুণ্য নেতৃত্বাধীন উন্নয়ন-ভিত্তিক মিডিয়া প্লাটফর্ম লাল সবুজ প্রকাশ। শিশু-কিশোর-তরুণদের চোখে অধিকার, জলবায়ু, সমতা, ন্যায্যতা ও সত্যের গল্পের খোঁজে গ্রাম থেকে শহর, পাহাড় থেকে চরের কথা তুলে ধরি আমরা। তুলে ধরি তাদের সৃজনশীলতা, ছড়াই সচেতনতার বার্তা।

কনটেন্টটি শেয়ার করো

Copied!

সর্বশেষ

ChatGPT Image Feb 24, 2026, 03_34_15 PM

ঢাকার এক চেনা কফি শপে বসে আছে শিমুল। হাতে ল্যাপটপ, স্ক্রিনে খোলা আছে একটি অনলাইন পিটিশন। উদ্দেশ্য স্পষ্ট, শহরের একটি জলাশয় সংরক্ষণে সরকারি পদক্ষেপ নিশ্চিত করা। কয়েক বছর আগে এমন দাবি তুলতে হলে জনসমাবেশ বা স্মারকলিপি জমা দিতে হত। কিন্ত বর্তমানে? শুধু একটি ক্লিক এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হাজার হাজার মানুষ সমর্থন জানাচ্ছে।

এই দৃশ্যটা অনুপ্রেরণামূলক। এটি দেখাচ্ছে যে, ডিজিটাল যুগে নাগরিক অংশগ্রহণ কেবল সহজলভ্যই নয় বরং গতিশীল ও সময়োপযোগী হয়ে উঠেছে। অনলাইন পিটিশনের মাধ্যমে জনমত তৈরি হয়, আলোচনায় ইস্যু উত্থাপিত হয় এবং কখনো কখনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকেও প্রভাবিত করতে পারে।

শিমুলের মতো মানুষ এখন ঘরে বসেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারে। এই পরিবর্তনই ডিজিটাল গণতন্ত্রের মূল প্রতিফলন।

ই-ভোটিং: প্রযুক্তি এবং ভোটদানের ধারণা

ই-ভোটিং বা ইলেকট্রনিক ভোটিং হলো ভোট প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, নির্ভুল এবং নিরাপদ করার একটি প্রযুক্তিগত ধারণা। কাগজের ব্যালটের পরিবর্তে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ, সংরক্ষণ এবং গণনা সহজ হয়।

বিশ্বের অনেক দেশে ই-ভোটিং ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি ভোটারদের জন্য সুবিধাজনক, দ্রুত ফলাফল নিশ্চিত করে এবং দীর্ঘমেয়াদে খরচও কমায়। কিন্তু এই প্রযুক্তি সহজে গ্রহণযোগ্য নয়; আস্থা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হয়।

বাংলাদেশ ও ই-ভোটিং এর বাস্তবতা

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সরাসরি ই-ভোটিং এখনো বাস্তব নয়। ২০১৮ সালের নির্বাচনে সীমিত কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (EVM) ব্যবহার করা হয়েছিল, কিন্তু ২০২৫ সালে নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করেছে, ২০২৬ সালের আসন্ন নির্বাচনে EVM ব্যবহার হবে না। ফলে সাধারণ ভোটারদের ভোট হবে ঐতিহ্যবাহী কাগজের ব্যালটে। এবং ২০২৬ এর নির্বাচনে দেশব্যাপীউ তাই ঘটে।

তবে এর মানে এই নয় যে প্রযুক্তির অবদান শূন্য। বরং নির্বাচন কমিশন নির্দিষ্ট কিছু ভোটারের জন্য চালু করেছে হাইব্রিড ব্যবস্থা, যা প্রবাসী, নির্বাচনী কর্মকর্তা এবং কারাবন্দীদের জন্য ডিজিটাল পোস্টাল ভোটের সুযোগ করে দেয়

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে পোস্টাল ভোটিং

নুসরাত যুক্তরাষ্ট্রে থাকে, এবার বাংলাদেশের নির্বাচনে ভোট দিতে পেরেছে Postal Vote BD অ্যাপের মাধ্যমে। পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল হলেও ভোট শেষ পর্যন্ত কাগজের ব্যালটের মাধ্যমে হয়।

নুসরাত প্রথমে অ্যাপের মাধ্যমে এনআইডি ও পাসপোর্ট দিয়ে নিবন্ধন করে। এরপর নির্বাচন কমিশন তার ঠিকানায় ডাকযোগে কাগজের ব্যালট পাঠায়। ভোট দেওয়ার পর ব্যালট আবার ডাকযোগে ফেরত পাঠানো হয়। এদিকে অ্যাপের মাধ্যমে সে দেখতে পারে তার ব্যালট কোথায় আছে, কখন কমিশনের কাছে পৌঁছাবে।

এই প্রক্রিয়া দেখাচ্ছে, ডিজিটাল প্রযুক্তি সরাসরি ভোট গ্রহণ না হলেও নাগরিক অংশগ্রহণকে ট্র্যাকযোগ্য, স্বচ্ছ এবং আরও নাগরিক বান্ধব করতে পারে।

ই-ভোটিংয়ের সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতা

যদি নিরাপদ ও সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, ই-ভোটিং নাগরিক অংশগ্রহণ ও নির্বাচন ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে।

প্রবাসী, প্রতিবন্ধী বা দূরবর্তী এলাকার ভোটাররা ঘরে বসে ভোট দিতে পারবে। সফটওয়্যারের মাধ্যমে ফলাফল মুহূর্তের মধ্যেই পাওয়া যাবে, যার ফলে গণনা ভুলের সম্ভাবনা কমে যাবে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে ব্যালট ছাপানো, পরিবহন ও বিশাল সংখ্যক নির্বাচনী কর্মকর্তার খরচও হ্রাস পাবে।

তবে সম্ভাবনার সঙ্গে চ্যালেঞ্জও আছে।

প্রথমত, আস্থা ও স্বচ্ছতার সংকট। রাজনৈতিক দল ও জনগণ এখনও ডিজিটাল ভোটিং নিয়ে সন্দিহান। সফটওয়্যারের মাধ্যমে ভোট কারচুপি বা ভুল গণনার আশঙ্কা সবসময় থাকে।

দ্বিতীয়ত, প্রযুক্তিগত জটিলতা। গ্রামীণ এলাকার অনেক ভোটার প্রযুক্তি-বান্ধব নয়। ইলেকট্রনিক ডিভাইসের রক্ষণাবেক্ষণ ও জলবায়ু সংক্রান্ত সমস্যা বড় চ্যালেঞ্জ।

তৃতীয়ত, ভোটার যাচাই ও স্বচ্ছতার সমস্যা। যাচাইযোগ্য পেপার ট্রেইল ছাড়া ভোটার নিশ্চিত হতে পারে না যে তার ভোট ঠিকভাবে গণনায় পড়েছে কিনা।

চতুর্থত, ডিজিটাল বিভাজন। সব ভোটারের কাছে ইন্টারনেট বা প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি নেই। তাই সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা কঠিন।

ডিজিটাল গণতন্ত্রের অংশ অনলাইন পিটিশন ও ই-ভোটিং

অনলাইন পিটিশন, সীমিত ই-ভোটিং ধারণা এবং পোস্টাল ভোট সবকিছুই ডিজিটাল গণতন্ত্রের অংশ। এগুলো নাগরিকদের ঘরে বসে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়, তাদের মতামত দৃশ্যমান হয়, এবং প্রশাসনকে প্রভাবিত করতে সাহায্য করে।

ডিজিটাল অংশগ্রহণ কেবল প্রযুক্তি নয়; এটি আস্থা, স্বচ্ছতা এবং অন্তর্ভুক্তির সঙ্গে যুক্ত। অনলাইন পিটিশন দ্রুত সংহতি তৈরি করে, পোস্টাল ভোট নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে এবং পূর্ণাঙ্গ ই-ভোটিং ভবিষ্যতে ভোট প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

বাংলাদেশে প্রযুক্তি ও নিরাপত্তার সমন্বয় সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হলে, ডিজিটাল উদ্যোগগুলো নাগরিক আস্থা বাড়াবে এবং গণতন্ত্রকে বাস্তব শক্তি দেবে।