/
/
শিশুদের ব্যবহৃত সামগ্রীতে প্লাস্টিকের ব্যবহার
শিশুদের ব্যবহৃত সামগ্রীতে প্লাস্টিকের ব্যবহার
Byলাল সবুজ প্রকাশ
Published২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
৩:১৫ অপরাহ্ণ
516646823_1181868137288453_5875725774706969096_n
লাল সবুজ প্রকাশ
বাংলাদেশের তারুণ্য নেতৃত্বাধীন উন্নয়ন-ভিত্তিক মিডিয়া প্লাটফর্ম লাল সবুজ প্রকাশ। শিশু-কিশোর-তরুণদের চোখে অধিকার, জলবায়ু, সমতা, ন্যায্যতা ও সত্যের গল্পের খোঁজে গ্রাম থেকে শহর, পাহাড় থেকে চরের কথা তুলে ধরি আমরা। তুলে ধরি তাদের সৃজনশীলতা, ছড়াই সচেতনতার বার্তা।

কনটেন্টটি শেয়ার করো

Copied!

সর্বশেষ

WhatsApp Image 2026-02-24 at 10.00.28 AM

রাজধানীর চকবাজার থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার দোকান, সবখানেই প্লাস্টিক খেলনার জয়জয়কার। রঙিন গাড়ি, নরম পুতুল কিংবা ফিডিং বোতল; সস্তা ও টেকসই হওয়ায় মধ্যবিত্তের প্রথম পছন্দ প্লাস্টিক। কিন্তু এই চাকচিক্যের আড়ালে আপনার শিশু কি প্রতিদিন তিল তিল করে বিষ পান করছে? সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক গবেষণা এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ বলছে, প্লাস্টিক খেলনায় ব্যবহৃত অদৃশ্য রাসায়নিকগুলো শিশুদের জন্য এক দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

খেলনা যখন হরমোন ধ্বংসকারী

শিশুরা স্বভাবগতভাবেই খেলনা মুখে দেয় বা চিবোয়। প্লাস্টিককে নমনীয় করতে ব্যবহৃত হয় ফথালেটস (Phthalates) এবং টেকসই করতে ব্যবহার হয় বিসফেনল-এ (BPA)।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং আমেরিকান একাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্স (AAP)-এর একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই উপাদানগুলো ‘এন্ডোক্রাইন ডিসরাপ্টর’। এগুলো শরীরে ঢুকে প্রাকৃতিক হরমোনের কাজে বিঘ্ন ঘটায়। এর ফলে শিশুদের থাইরয়েড সমস্যা, দ্রুত বয়ঃসন্ধি আসা এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এছাড়া খেলনা থেকে নির্গত অতি ক্ষুদ্র মাইক্রোপ্লাস্টিক সরাসরি শিশুর রক্তপ্রবাহে মিশে গিয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমিয়ে দিতে পারে।

 

সস্তা বনাম নিরাপদ: অর্থনৈতিক বাস্তবতা

বাজারে একটি প্লাস্টিক পুতুল যেখানে ৫০ থেকে ২০০ টাকায় পাওয়া যায়, সেখানে একই মানের একটি কাঠের বা কাপড়ের তৈরি খেলনার দাম ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা। বিকল্পের এই আকাশচুম্বী দাম এবং সহজলভ্যতার অভাব সাধারণ মানুষকে অনিচ্ছাসত্ত্বেও ঝুঁকিপূর্ণ প্লাস্টিকের দিকেই ঠেলে দিচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সস্তায় খেলনা কিনে সাময়িকভাবে সাশ্রয় হলেও, দীর্ঘমেয়াদে বড় কোনো শারীরিক জটিলতার চিকিৎসা খরচ সেই সাশ্রয়কে বহুগুণ ম্লান করে দিতে পারে।

 

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা

বিশ্বের অনেক দেশেই খেলনার নিরাপত্তায় কঠোর আইন থাকলেও বাংলাদেশে এর প্রয়োগ এখনো সীমিত। ইউরোপীয় ইউনিয়নে এই সংক্রান্ত আইনে বলা আছে, ৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের খেলনায় বিসফেনল এবং ফথালেট পুরোপুরি নিষিদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্রে সীসা এবং ফথালেটের মাত্রার ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত ল্যাব টেস্ট এর আদেশ রয়েছে। তবে, বাংলাদেশ বিএসটিআই মানদণ্ডে খেলনার বাহ্যিক মান দেখা হলেও রাসায়নিক পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা এখনো সেভাবে নেই।

 

বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট সমাধানে কেবল সচেতনতা যথেষ্ট নয়। তারা বলছেন, জাতীয়ভাবে একটি সুনির্দিষ্ট ‘খেলনা নিরাপত্তা নীতিমালা’ প্রণয়ন করা জরুরি। যেখানে বিএসটিআই-এর মাধ্যমে বাজারে থাকা খেলনায় ক্ষতিকারক রাসায়নিকের মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি, পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ খেলনা উৎপাদনে দেশীয় উদ্যোক্তাদের শুল্ক সুবিধা বা প্রণোদনা দেওয়া হলে বিকল্প পণ্যগুলো সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আসবে।

 

অন্যদিকে অভিভাবকদের প্রতি পরামর্শ দিয়ে চিকিৎসকরা বলছেন, খেলনা কেনার সময় গাঢ় রঙের ও কড়া প্লাস্টিক গন্ধযুক্ত সস্তা খেলনা বর্জন করা উচিত। এছাড়া অন্তত খাবারের পাত্র ও পানির বোতলের ক্ষেত্রে প্লাস্টিক পুরোপুরি