/
/
/
ইউএনডিপির মানবাধিকার ফেলোশিপে ৪০ তরুণ
ইউএনডিপির মানবাধিকার ফেলোশিপে ৪০ তরুণ
Byadminsr
Published
৪:০২ অপরাহ্ণ
516646823_1181868137288453_5875725774706969096_n
লাল সবুজ প্রকাশ
বাংলাদেশের তারুণ্য নেতৃত্বাধীন উন্নয়ন-ভিত্তিক মিডিয়া প্লাটফর্ম লাল সবুজ প্রকাশ। শিশু-কিশোর-তরুণদের চোখে অধিকার, জলবায়ু, সমতা, ন্যায্যতা ও সত্যের গল্পের খোঁজে গ্রাম থেকে শহর, পাহাড় থেকে চরের কথা তুলে ধরি আমরা। তুলে ধরি তাদের সৃজনশীলতা, ছড়াই সচেতনতার বার্তা।

কনটেন্টটি শেয়ার করো

Copied!

সর্বশেষ

UNDP Fellowship

মানবাধিকার বিষয়ে দক্ষ ও নেতৃত্বসক্ষম নতুন একটি তরুণ দল তৈরি করেছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নির্বাচিত ৪০ জন তরুণ সফলভাবে মানবাধিকার ফেলোশিপ সম্পন্ন করেছেন। প্রশিক্ষণ শেষে তারা নিজ নিজ এলাকায় মানবাধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, নাগরিক অংশগ্রহণ জোরদার এবং অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় সঠিক সহায়তার পথ দেখাতে কাজ করবেন।

রোববার (২৬ জুলাই) ইউএনডিপি বাংলাদেশ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সুইজারল্যান্ড সরকারের সহযোগিতায় পরিচালিত এই ফেলোশিপের উদ্দেশ্য ছিল তরুণদের মানবাধিকার বিষয়ে শুধু প্রশিক্ষিত করা নয়, বরং তাদেরকে স্থানীয় পর্যায়ে পরিবর্তনের অগ্রণী প্রতিনিধি হিসেবে গড়ে তোলা। সংস্থাটির মতে, এই উদ্যোগ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি-১৬) আওতায় শান্তি, ন্যায়বিচার এবং জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নেবে।
ফেলোশিপের শুরুতে মানবাধিকার বিষয়ক প্রাথমিক ওরিয়েন্টেশনে অংশ নেন ২৮৭ জন তরুণ। সেখান থেকে আবেদনকারী ১৫১ জনের মধ্য থেকে বিভিন্ন ধাপে মূল্যায়নের মাধ্যমে ৪০ জনকে চূড়ান্তভাবে ফেলো হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। নির্বাচনের পর তারা নিবিড় প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন এবং পরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তরুণদের জন্য অনলাইনভিত্তিক মানবাধিকার সচেতনতামূলক সেশন পরিচালনা করেন।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে সারাদেশে মোট ২৪১টি ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অংশ নেন ৪ হাজার ১২৯ জন তরুণ। এসব সেশনে মানবাধিকারের মৌলিক ধারণা, অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা কোথায় ও কীভাবে জানাতে হয় এবং নাগরিক হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা রাখার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।

২৫ জুলাই গাজীপুরে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে ফেলো, প্রশিক্ষক এবং ইউএনডিপির কর্মকর্তারা কর্মসূচির অর্জন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেন। একই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের সনদ প্রদান করা হয় এবং মাঠপর্যায়ে কাজের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করা হয়।
অনুষ্ঠানে ইউএনডিপি বাংলাদেশের সুশাসন বিভাগের সিনিয়র প্রোগ্রাম অ্যাডভাইজার ড্রাগান পপোভিচ বলেন, এই কর্মসূচি প্রমাণ করেছে যে তরুণরা কেবল সচেতনতার বার্তা গ্রহণকারী নন, বরং নিজেরাই অন্যদের প্রশিক্ষণ দিয়ে মানবাধিকারভিত্তিক সমাজ গঠনে কার্যকর নেতৃত্ব দিতে সক্ষম। তাদের অর্জিত অভিজ্ঞতা স্থানীয় পর্যায়ে ইতিবাচক পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে অংশ নেওয়া এক ফেলো বলেন, এই ফেলোশিপের মাধ্যমে তারা শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞানই অর্জন করেননি, বরং বাস্তবে মানুষের সঙ্গে কাজ করার দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসও পেয়েছেন। ফলে এখন তারা স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে মানবাধিকার সম্পর্কিত তথ্য, সহায়তা পাওয়ার উপায় এবং প্রয়োজনীয় সেবার সঙ্গে সংযুক্ত করতে আরও কার্যকরভাবে ভূমিকা রাখতে পারবেন।

ইউএনডিপির ভাষ্য অনুযায়ী, এই ফেলোশিপ বৃহত্তর একটি কর্মসূচির অংশ, যার মাধ্যমে মানবাধিকার রক্ষাকারী ব্যক্তি ও সংগঠনের সক্ষমতা বৃদ্ধি, তরুণদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা শক্তিশালী করা হচ্ছে। সুইজারল্যান্ডের সহায়তায় বাস্তবায়িত Strengthening Institutions, Policies and Services প্রকল্পের আওতায় জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান, অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ, জেন্ডার সমতা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে ইউএনডিপির প্রজেক্ট ম্যানেজার মাহমুদুল হাসান এবং ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যানালিস্ট সুসান সুহাও বক্তব্য দেন।