

দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে আগামী ১ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৬–২০২৭ পর্যটন মৌসুম। পর্যটকেরা ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত দ্বীপে যাতায়াত ও ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। তবে দ্বীপের স্পর্শকাতর পরিবেশ, প্রবালসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রত্যেক পর্যটককে জনপ্রতি ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে। পাশাপাশি দৈনিক গড়ে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ পর্যটকের ভ্রমণের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ কমিয়ে দ্বীপের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখা যায়।
পরিবেশ সংরক্ষণ ফি আদায়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের ইকোসিস্টেম ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০১৬-এর ২৬ নম্বর বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ ছাড়া সেন্টমার্টিন রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে অনুমোদিত পর্যটকবাহী জাহাজগুলো চলাচল করবে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া অন্য কোনো নৌযান বা জাহাজ চলাচল করতে পারবে না। নির্ধারিত পর্যটকসংখ্যা, অনুমোদিত ঘাট ব্যবহার এবং জাহাজ চলাচলের নিয়ম কঠোরভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এই দ্বীপের অনন্য প্রবালসম্পদ, সামুদ্রিক ও স্থলজ জীববৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণে এসব বিধিনিষেধ কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যটন কার্যক্রম সচল রাখার পাশাপাশি প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর মানুষের চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং দ্বীপের পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখাই এসব পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য। তবে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি, দৈনিক পর্যটকসংখ্যার সীমা ও নৌযান চলাচলের নির্দেশনা সরকারি প্রজ্ঞাপন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তি থেকে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।