/
/
ডিজিটাল রূপান্তরে নির্বাচন কমিশন: ভোগান্তি ছাপিয়ে ই-সেবার স্বস্তি
ডিজিটাল রূপান্তরে নির্বাচন কমিশন: ভোগান্তি ছাপিয়ে ই-সেবার স্বস্তি
Byলাল সবুজ প্রকাশ
Published২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
১:০৯ অপরাহ্ণ
516646823_1181868137288453_5875725774706969096_n
লাল সবুজ প্রকাশ
বাংলাদেশের তারুণ্য নেতৃত্বাধীন উন্নয়ন-ভিত্তিক মিডিয়া প্লাটফর্ম লাল সবুজ প্রকাশ। শিশু-কিশোর-তরুণদের চোখে অধিকার, জলবায়ু, সমতা, ন্যায্যতা ও সত্যের গল্পের খোঁজে গ্রাম থেকে শহর, পাহাড় থেকে চরের কথা তুলে ধরি আমরা। তুলে ধরি তাদের সৃজনশীলতা, ছড়াই সচেতনতার বার্তা।

কনটেন্টটি শেয়ার করো

Copied!

সর্বশেষ

lsp (9)

সকাল আটটা। উপজেলা নির্বাচন অফিসের সামনে লম্বা লাইন। কারও হাতে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) সংশোধনের আবেদন, কেউ ভোটার তালিকায় নাম তুলতে এসেছেন, কেউ আবার তথ্য জানতে এসে বিভ্রান্ত। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও অনেক সময় সেবা মিলতো ধীরগতিতে। এই দৃশ্য খুব পুরোনো নয়। কিন্তু ধীরে ধীরে দৃশ্যপট বদলাচ্ছে।

 

এখন অনেকেই অফিসে যাওয়ার আগে মোবাইল ফোন খুলে দেখেন তথ্য পাওয়া যায় কি না, আবেদন করা যায় কি না, বা প্রয়োজনীয় নির্দেশনা আছে কি না। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রেই রয়েছে নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশের ই-সেবা।

নাগরিক অভিজ্ঞতায় স্বস্তি

ই-সেবা মানে শুধু একটি ওয়েবসাইট নয়; এটি একটি ধারণা, যা তথ্য ও প্রক্রিয়াকে নাগরিকের নাগালে আনে। বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার কৃষক সুলতান আহমেদ (৪০) বলেন, “আগে এনআইডি কার্ড ঠিক করা মানেই ছিল ঝক্কি। দুইবার গিয়েও ভিড়ের কারণে ফিরে আসছি। এবার আমার ছেলে মোবাইল দিয়ে অনলাইনে আবেদন করে দিল। ঘরে বসেই সব জানতে পারছি। বারবার বাস ভাড়া দিয়ে শহরে যাওয়ার ভোগান্তি আর টাকা দুইটাই বাঁচল।”

এমনকি সাভারের পোশাককর্মী মরিয়ম বেগমের মতো হাজারো শ্রমজীবী মানুষ এখন দুপুরের বিরতিতে মোবাইলে আবেদন করে অনলাইনেই সংশোধিত কপি ডাউনলোড করতে পারছেন।

 

প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও স্বচ্ছতা

নির্বাচনকে আমরা প্রায়ই শুধু ভোটের দিনের আয়োজন হিসেবে দেখি। কিন্তু বাস্তবে এটি এক বিশাল প্রশাসনিক কাঠামো। এই প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও দ্রুত করতে মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। বরিশাল জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার মো. রোকনুজ্জামান এ প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা কোনো এজেন্টের (দালাল) বিষয়ে জানি না। আবেদনকারীরা অনলাইনে আবেদন করলে আমরা সেগুলো রিভিউ করি এবং নিয়ম অনুযায়ী সংশোধন করে দেই। তবে মাঝে কিছু ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছিল জন্মতারিখ পরিবর্তন নিয়ে; এই কাজটি আগে আমরা করলেও এখন আর করছি না।”

তিনি আরও জানান, যারা সরাসরি অফিসে আসেন তাদের সহায়তার জন্য অতিরিক্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবল এবং প্রয়োজনীয় ডিভাইস রাখা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ কোনো বিভ্রান্তি ছাড়াই সরাসরি সেবা পেতে পারেন।

তথ্য ও প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা

নির্বাচন সংক্রান্ত ডিজিটাল অবকাঠামো আস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। এই সিস্টেমের মূল সার্ভার থাকে নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে। জেলা নির্বাচন অফিসার মো. রোকনুজ্জামানের মতে, “এই সার্ভারটি অত্যন্ত সুরক্ষিত এবং উচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই এটি পরিচালনা করা হয়।” ডিডস আক্রমণ, ফিশিং বা অননুমোদিত প্রবেশ ঠেকাতে নিয়মিত নিরাপত্তা অডিট ও লগ মনিটরিং করা হয়।

চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

সবাই সমানভাবে ডিজিটাল সুবিধা ব্যবহার করতে পারেন না—এ বাস্তবতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তাই ই-সেবা চালুর পাশাপাশি উপজেলা বা জেলা পর্যায়ে সহায়তা ডেস্ক এবং সহজ ভিডিও গাইড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ই-সেবাকে আরও কার্যকর করতে নিচের পদক্ষেপগুলো নেওয়া যেতে পারে:

  • সব সেবা নিয়ে একটি ‘সিঙ্গেল উইন্ডো’ প্ল্যাটফর্ম।
  • রিয়েল-টাইম আবেদন ট্র্যাকিং ব্যবস্থা।
  • ব্যবহারকারীর ফিডব্যাক নিয়ে নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট।

নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশের ই-সেবা ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের একটি বড় ধাপ। এটি কেবল নাগরিক ভোগান্তিই কমায়নি, বরং প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করেছে। প্রযুক্তি তখনই টেকসই রূপান্তর আনে, যখন তা আসাদুল বা মরিয়মের মতো সাধারণ মানুষের বাস্তব সুবিধা নিশ্চিত করে এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনআস্থা বৃদ্ধি করে।

Digital Transformation in Election Commission: E-services Ease Citizen Suffering

BARISHAL: It is 8:00 AM. A long queue snakes in front of the Upazila Election Office. Some hold applications for National Identity Card (NID) corrections, some are there to register as new voters, while others look confused, seeking basic information. Not long ago, this was a scene of endless waiting and slow service. However, the landscape is gradually shifting.

Today, many check their mobile phones before heading to the office to see if the required information is available or if an application can be filed online. At the heart of this transformation lies the e-service initiatives of the Election Commission (EC) Bangladesh.

 

Relief in Citizen Experience

E-service is not just a website; it is a concept that brings information and processes to the doorsteps of citizens. Sultan Ahmed (40), a farmer from Barishal’s Mehendiganj upazila, shared his experience,